MACAULAY’S MINUTES ON INDIAN EDUCATION (ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ)

MACAULAY’S

 

MINUTES ON INDIAN EDUCATION

2nd of February, 1835

মেকলে

ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ

২ ফেব্রুয়ারি, ১৮৩৫               অনুবাদঃ জিয়াউর রহমান মুন্সী

As it seems to be the opinion of some of the gentlemen who compose the Committee of Public Instruction, that the course which they have hitherto pursued was strictly prescribed by the British Parliament in 1813, and as, if that opinion be correct, a legislative act will be necessary to warrant a change, I have thought it right to refrain from taking any part in the preparation of the adverse statements which are now before us, and to reserve what I had to say on the subject till it should come before me as a member of the Council of India. যেহেতু জনশিক্ষা কমিটির ভদ্রলোকদের কারো কারো মতামত এরকমই মনে হচ্ছে যে, এযাবৎ তারা যে কোর্স অনুসরণ করে আসছে তা ছিল ১৮১৩ সালে বৃটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক কঠোরভাবে নির্ধারিত এবং যেহেতু (সেই মতামত সঠিক হলে) পরিবর্তন সাধনের জন্য একটি সংসদীয় আইন অত্যাবশ্যক হয়ে পড়বে, সেহেতু আমাদের সামনে বর্তমানে যে সকল বিরুদ্ধ বক্তব্য রয়েছে সেগুলো প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে কোনরকম অংশগ্রহন করা থেকে বিরত থাকা এবং ভারত পরিষদের একজন সদস্য হিসেবে বিষয়টি আমার সামনে আসার আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে আমার যা বলার ছিল তার ব্যাপারে চুপ থাকাকেই আমি যথোচিত মনে করেছি।
It does not appear to me that the Act of Parliament can, by any art of construction, be made to bear the meaning which has been assigned to it. It contains nothing about the particular languages or sciences which are to be studied. A sum is set apart “for the revival and promotion of literature and the encouragement of the learned natives of India, and for the introduction and promotion of a knowledge of the sciences among the inhabitants of the British territories.” It is argued, or rather taken for granted, that by literature, the Parliament can have meant only Arabic and Sanscrit literature, that they never would have given the honorable appellation of “a learned native” to a native who was familiar with the poetry of Milton, the Metaphysics of Locke, and the Physics of Newton; but that they meant to designate by that name only such persons as might have studied in the sacred books of the Hindoos all the uses of cusa-grass, and all the mysteries of absorption into the Deity. This does not appear to be a very satisfactory interpretation. To take a parallel case; suppose that the Pacha of Egypt, a country once superior in knowledge to the nations of Europe but now sunk far below them, were to appropriate a sum for the purpose of “reviving and promoting literature, and encouraging learned natives of Egypt,” would anybody infer that he meant the youth of his pachalic to give years to the study of hieroglyphics, to search into all the doctrines disguised under the fable of Osiris, and to ascertain with all possible accuracy the ritual with which cats and onions were anciently adored? Would he be justly charged with inconsistency, if, instead of employing his young subjects in deciphering obelisks, he were to order them to be instructed in the English and French languages, and in all the sciences to which those languages are the chief keys? সংসদের (ঐ) আইনটির যে অর্থ করা হয়েছে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের কোন রীতি অনুযায়ী সে অর্থ করার কোন সুযোগ আছে বলে আমার মনে হয় না। কোন্ কোন্ ভাষা বা বিজ্ঞান অধীত হবে সে ব্যাপারে ঐ আইনে কিছুই বলা হয়নি। “ভারতের বিদ্বান অধীবাসীদের উৎসাহ প্রদান, সাহিত্যের পূনর্জাগরণ ও উন্নতিসাধন এবং বৃটিশ অঞ্চল সমূহের অধিবাসীদের মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষার সূচনা ও উন্নতির জন্য” কিছু অর্থ আলাদা করে রাখা হয়েছে। যুক্তি দেয়া হচ্ছে (অথবা নিশ্চিতভাবে ধরে নেয়া হচ্ছে) যে, (১) (বৃটিশ) পার্লামেন্ট সাহিত্য দ্বারা কেবল আরবি ও সংস্কৃত সাহিত্যকেই বুঝাতে পারে এবং (২) তারা “একজন স্থানীয় বিদ্বান”- র  খেতাব কখনো এমন ব্যক্তিকে দেয়নি যে মিল্টনের কাব্য, লকের অধিবিদ্যা এবং নিউটনের পদার্থ বিদ্যার সাথে পরিচিত; তারা বরং ঐ নামটি দ্বারা শুধু এমন সব ব্যক্তিকে বুঝিয়েছে যারা হিন্দুদের পবিত্র গ্রন্থসমূহে তুলসীপাতার সামগ্রিক ব্যবহার এবং দেবতায় আত্মীভূত হওয়ার তাবৎ রহস্য অধ্যয়ন করেছে। এটা খুব একটা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা বলে মনে হয় না। অনুরূপ একটি ঘটনা নিই। ধরুন মিশরের পাশাদের কথা ই। এক সময় জ্ঞান বিজ্ঞানে মিশর ছিল ইউরোপীয় জাতিসমূহের তুলনায় উন্নত; কিন্তু বর্তমানে এটি তাদের অনেক নীচে অবস্থান করছে। (ধরি) “সাহিত্যের পূনর্জাগরণ ও উন্নতি সাধন ও মিশরের বিদ্বান অধিবাসীদের উৎসাহ প্রদান”-র উদ্দেশ্যে পাশাদের কিছু অর্থ আলাদা করে রাখতে হয়েছিল। কেউ কি এ কথা মনে করবে যে, পাশারা চেয়েছিল হায়ারোগ্লাফি অধ্যয়ন, ওসিরিসের নীতিকথার সকল নেপথ্য মতবাদের অনুসন্ধান এবং প্রাচীনকালে বিড়াল ও পেঁয়াজ গুলোকে যে আচার-অনুষ্ঠান সহকারে পূজা করা হতো সম্ভাব্য সর্বোচ্চ মাত্রার নির্ভুলতার সাথে তা নিরূপন করার পেছনে তার দেশের যুব সম্প্রদায় বছরের পর বছর কাটিয়ে দিক? যদি মিশরীয় পাশা তার তরুন প্রজন্মকে প্রস্তরলিপির মর্মোদ্ঘাটনে নিয়োগ করার পরিবর্তে তাদেরকে ফরাসি ও ইংরেজি ভাষা এবং জ্ঞান বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখায় – যেখানে এ ভাষাগুলো অত্যাবশ্যক – জ্ঞানার্জনের নির্দেশ দেন তাহলে কি অসংগতির দায়ে তাকে অভিযুক্ত করা যাবে ?
The words on which the supporters of the old system rely do not bear them out, and other words follow which seem to be quite decisive on the other side. This lac of rupees is set apart, not only for “reviving literature in India,” the phrase on which their whole interpretation is founded, but also for “the introduction and promotion of a knowledge of the sciences among the inhabitants of the British territories,”–words which are alone sufficient to authorise all the changes for which I contend. সেকেলে ব্যবস্থার সমর্থকেরা যে শব্দসমূহের উপর নির্ভর করছেন তাদের বক্তব্যকে সমর্থন করেনা; বরং তার পরে এমন কিছু শব্দ রয়েছে যা দ্ব্যর্থহীনভাবে তাদের বিপরীত দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে হয়। তাদের পুরো ব্যাখ্যাটি যে বাক্যাংশের উপর দাড়িয়ে আছে (অর্থ্যাৎ “ভারতে সাহিত্যের পুনর্জীবন দান”) নিছক তার জন্যই লক্ষ লক্ষ রুপী আলাদা করে রাখা হয়নি; বরং “বৃটিশ অঞ্চলসমূহের অধিবাসীদের মধ্যে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার জ্ঞানের সূচনা ও উন্নয়ন সাধন” ও এর উদ্দেশ্য। আমি যেসকল পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছি তার প্রামাণিকতার জন্য এ শব্দগুলিই যথেষ্ট।
If the Council agree in my construction, no legislative Act will be necessary. If they differ from me, I will prepare a short Act rescinding that clause of the Charter of 1813, from which the difficulty arises. পরিষদের সদস্যবর্গ যদি আমার ব্যাখ্যার সাথে একমত হন তাহলে কোন সংসদীয় আইনের প্রয়োজন পড়বেনা। (তবে) তারা যদি আমার সাথে দ্বিমত পোষন করেন তাহলে ১৮১৩ সালের সনদের যে দফা থেকে এ জটিলতা দেখা দিয়েছে তা বাদ দিয়ে আমি একটি সংক্ষিপ্ত সংসদীয় আইনের (খসড়া) প্রস্তুত করবো।
The argument which I have been considering, affects only the form of proceeding. But the admirers of the Oriental system of education have used another argument, which, if we admit it to be valid, is decisive against all change. They conceive that the public faith is pledged to the present system and that to alter the appropriation of any of the funds which have hitherto been spent in encouraging the study of Arabic and Sanscrit, would be down-right spoliation. It is not easy to understand by what process of reasoning they can have arrived at this conclusion. The grants which are made from the public purse for the encouragement of literature differed in no respect from the grants which are made from the same purse for other objects of real or supposed utility. We found a sanitarium on a spot which we suppose to be healthy. Do we thereby pledge ourselves to keep a sanitarium there, if the result should not answer our expectation? We commence the erection of a pier. Is it a violation of the public faith to stop the works, if we afterwards see reason to believe that the building will be useless? The rights of property are undoubtedly sacred. But nothing endangers those rights so much as the practice, now unhappily too common, of attributing them to things to which they do not belong. Those who would impart to abuses the sanctity of property are in truth imparting to the institution of property the unpopularity and the fragility of abuses. If the Government has given to any person a formal assurance; nay, if the Government has exalted in any person’s mind a reasonable expectation that he shall receive a certain income as a teacher or a learner of Sanscrit or Arabic, I would respect that person’s pecuniary interests–I would rather err on the side of liberality to individuals than suffer the public faith to be called in question. But to talk of a Government pledging itself to teach certain languages and certain sciences, though those languages may become useless, though those sciences may be exploded, seems to me quite unmeaning. There is not a single word in any public instructions, from which it can be inferred that the Indian Government ever intended to give any pledge on this subject, or ever considered the destination of these funds as unalterably fixed. But had it been otherwise, I should have denied the competence of our predecessors to bind us by any pledge on such a subject. Suppose that a Government had in the last century enacted in the most sole,nn manner that all its subjects should, to the end of time, be inoculated for the smallpox: would that Government be bound to persist in the practice after Jenner’s discovery? These promises, of which nobody claims the performance, and from which nobody can grant a release; these vested rights, which vest in nobody; this property without proprietors; this robbery, which makes nobody poorer, may be comprehended by persons of higher faculties than mine.— I consider this plea merely as a set form of words, regularly used both in England and in India, in defence of every abuse for which no other plea can be set up. আমি যে যুক্তিটি বিবেচনা করে আসছি তা কেবল কাজের পদ্ধতিকেই (procedure) প্রভাবিত করবে। কিন্তু, প্রাচ্য শিক্ষাব্যবস্থার স্তাবকেরা অন্য যুক্তি ব্যবহার করেছেন। (তাদের) যুক্তিটিকে যদি আমরা সঠিক বলে মেনে নেই তাহলে তা হবে সব ধরনের পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তকরী যুক্তি। তারা মনে করেন যে, জনগনের আস্থা কেবল বর্তমান শিক্ষাপদ্ধতির সাথেই রয়েছে এবং এ যাবৎ আরবি ও সংস্কৃত শিক্ষাকে উৎসাহিত করার জন্য যে সকল তহবিল ব্যবহৃত হয়েছে তার কোন একটি তহবিল অন্য খাতে ব্যবহারের জন্য আলাদা করলে তা সোজা-সাপ্টা লুন্ঠন বলে বিবেচিত হবে। যুক্তি বিন্যাসের কোন প্রক্রিয়া অবলম্বন করে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তা বুঝা সহজ নয়। সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জাতীয় কোষাগার থেকে যে অনুদান বরাদ্দ করা হয় তা অন্যান্য বাস্তব কিংবা সম্ভাব্য সুবিধার জন্য একই কোষাগার থেকে বরাদ্দকৃত অনুদান থেকে কোন ক্রমেই স্বতন্ত্র কিছু নয়। (মনে করুন) এমন এক জায়গায় একটি হাসপাতাল পেলাম যা আমাদের ধারণা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসম্মত। তার মানে কি এই যে, (হাসপাতালটির) ফলাফল আশানুরূপ না হলেও আমরা হাসপাতালটিকে ঐ স্থানে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ? আমরা একটি কাঠামো নির্মান করছি। পরে যদি এ কথা মনে করার কারণ দেখতে পাই যে এ ভবনটি কোন কাজে আসবেনা, তাহলে তার কাজ বন্ধ করে দিলে কি তা জনগণের আস্থার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে বিবেচিত হবে ? সম্পত্তির অধিকার নিঃসন্দেহে পবিত্র। তবে অপাত্রে অধিকার আরোপ করার প্রথাটিই – যা বর্তমানে অস্বস্তিকরভাবে প্রচলিত – সম্পত্তির অধিকারকে সবচেয়ে বেশী বিপন্ন করে তোলে। যারা সম্পত্তির পবিত্রতার অপব্যবহার করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে সম্পত্তির ধারণাটিকেই অজনপ্রিয়তা ও পুনঃ পুনঃ অপব্যবহারের দিকেই ঠেলে দিচ্ছেন। সরকার যদি কোন ব্যক্তিকে কোন আনুষ্ঠানিক আশ্বাস দিয়ে থাকে, এমনকি সরকার যদি কোন ব্যক্তির মনে এই মর্মে কোন ন্যায়সংগত প্রত্যাশা জাগিয়ে থাকে যে, সে সংস্কৃত বা আরবির শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থী হিসেবে কিছুটা আয় করতে পারবে – তাহলে আমি ঐ ব্যক্তির আর্থিক স্বার্থকে সম্মান করব; আমি বরং জনগনের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার দায় গ্রহন করার চেয়ে ব্যক্তিবিশেষের প্রতি অতিরিক্ত উদার হওয়াকে প্রাধান্য দিব। সরকার কয়েকটি ভাষা ও বিজ্ঞানের কয়েকটি শাখা শিক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সে ভাষাগুলো অকেজো ও সে সকল বিজ্ঞান ভ্রান্ত প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও সরকারের প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে আলোচনা করাটা একেবারে নিরর্থক। সরকারী নির্দেশনাসমূহে এমন একটি শব্দও নেই যা থেকে অনুমান করা যেতে পারে যে ভারত সরকার এ বিষয়ে কোন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আদৌ কোন ইচ্ছা করেছিল কিংবা এই তহবিলসমূহের লক্ষ্যকে একেবারে অপরিবর্তনযোগ্য মনে করেছিল। উপরন্তু, ব্যপারটি যদি অন্যথা হত তাহলে এ বিষয়ে কোন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে আমাদেরকে বাধ্য করা সংক্রান্ত আমাদের পূর্বসুরীদের ক্ষমতাকেই আমি অস্বীকার করতাম। ধরুন, গত শতকের কোন সরকার সর্বোচ্চ আনুষ্ঠানিকতা সহকারে এই মর্মে একটি আইন জারি করলো যে, তার প্রত্যেক নাগরিককে আজীবন গুটিবসন্তের টিকা নিতে হবে। জেনারের আবিষ্কারের পরেও কি ঐ সরকার এই প্রথা চালু রাখতে বাধ্য থাকবে ?  এমন প্রতিশ্রুতি যা পালনের দাবী কেউ করছেনা এবং যা থেকে কেউ মুক্তিও দিতে পারেনা; এমন অর্পিত অধিকার যা কারো উপর অর্পিত হয়না; এমন সম্পত্তি যার কোন মালিক নেই; এমন ডাকাতি যা কাউকে গরীব বানায়না – এসব কিছু হয়তো আমার চেয়ে উন্নত বুদ্ধিমত্তার লোকেরাই বুঝতে পারে। আমি এ অজুহাতকে  নিছক শব্দমালা ই মনে করি যা ইংল্যান্ড ও ভারতে এমন প্রত্যেকটি অপব্যবহারের সাফাই হিসেবে নিয়মিত ব্যবহৃত হচ্ছে যার জন্য এতদ্ভিন্ন অন্য কোন অজুহাত দাঁড় করানো যায়না।
I hold this lac of rupees to be quite at the disposal of the Governor General in Council, for the purpose of promoting learning in India, in any way which may be thought most advisable. I hold his Lordship to be quite as free to direct that it shall no longer be employed in encouraging Arabic and Sanscrit, as he is to direct that the reward for killing tigers in Mysore shall be diminished, that no more public money shall be expended on the chanting at the cathedral. আমি মনে করি, এই কয়েক লাখ রুপি গভর্নর জেনারেল ইন কাউন্সিল –‘র সম্পূর্ণ অধীন। ভারতে শিক্ষার উন্নয়নের উদ্দেশ্যে সর্বাধিক কল্যানজনক পন্থায় তিনি তা খরচ করার অধিকারী। আমি মনে করি, মহামান্য গভর্নর ‘মহীশূরে ব্যঘ্র নিধনের পুরস্কার হ্রাস করা হবে’ কিংবা ‘গির্জার স্তব অনুষ্ঠানে আর কোন সরকারী অর্থ খরচ করা হবে না’- মর্মে নির্দেশ জারী  করার ক্ষেত্রে যতটা স্বাধীন ‘এই তহবিল আরবি ও সংস্কৃত শিক্ষা উদ্বুদ্ধ করার জন্য আর ব্যবহৃত হবে না’- মর্মে নির্দেশ জারী করার  ক্ষেত্রেও তিনি ততটাই স্বাধীন।
We now come to the gist of the matter. We have a fund to be employed as Government shall direct for the intellectual improvement of the people of this country. The simple question is, what is the most useful way of employing it? আমরা এখন বিষয়টির মূল অংশে আসছি। এ দেশের জনগনের বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নের লক্ষে সরকার নির্দেশিত পন্থায় খরচ করার জন্য আমাদের একটি তহবিল আছে। সরল প্রশ্নটি হচ্ছে, এই তহবিল কাজে লাগানোর সর্বাধিক উপযোগী পন্থা কোনটি ?
All parties seem to be agreed on one point, that the dialects commonly spoken among the natives of this part of India, contain neither literary nor scientific information, and are, moreover, so poor and rude that, until they are enriched from some other quarter, it will not be easy to translate any valuable work into them. It seems to be admitted on all sides, that the intellectual improvement of those classes of the people who have the means of pursuing higher studies can at present be effected only by means of some language not vernacular amongst them. একটি বিষয়ে সব পক্ষই একমত বলে মনে হয় যে, ভারতের এ অঞ্চলের অধিবাসীরা যে সকল স্থানীয় ভাষায় কথা বলে সেগুলোতে না আছে কোন সাহিত্যের তথ্য আর না আছে কোন বৈজ্ঞানিক তথ্য। আর তাছাড়া এগুলো এতটাই নিঃস্ব ও অপরিশোধিত যে অন্য কোন দিক থেকে এগুলোকে সমৃদ্ধ করার আগ পর্যন্ত কোন গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানগর্ভ বিষয় এ সকল ভাষায় অনুবাদ করা সহজ নয়।  সব পক্ষ থেকেই একটি বিষয় মেনে নেয়া হচ্ছে বলে মনে হয় যে, যে সকল লোকের উচ্চ শিক্ষা অর্জনের সুযোগ রয়েছে বর্তমানে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি কেবল  এমন ভাষার মাধ্যমেই হতে পারে যা তাদের মধ্যে প্রচলিত নয়।
What then shall that language be? One-half of the Committee maintain that it should be the English. The other half strongly recommend the Arabic and Sanscrit. The whole question seems to me to be, which language is the best worth knowing? তাহলে কোনটি হবে সেই ভাষা? কমিটির অর্ধেক লোক মনে করেন এটি হওয়া উচিত ইংরেজি। বাকি অর্ধেক সংস্কৃত ও আরবির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। আমার কাছে মনে হয় পুরো প্রশ্নটি হচ্ছে, কোন ভাষাটি জানা সর্বাধিক উপযোগী।
I have no knowledge of either Sanscrit or Arabic.–But I have done what I could to form a correct estimate of their value. I have read translations of the most celebrated Arabic and Sanscrit works. I have conversed both here and at home with men distinguished by their proficiency in the Eastern tongues. I am quite ready to take the Oriental learning at the valuation of the Orientalists themselves. I have never found one among them who could deny that a single shelf of a good European library was worth the whole native literature of India and Arabia. The intrinsic superiority of the Western literature is, indeed, fully admitted by those members of the Committee who support the Oriental plan of education. সংস্কৃত বা আরবি – কোনটির জ্ঞানই আমার নেই। তবে তাদের যথাযথ মূল্যমান নির্ধারনের যথাসাধ্য চেষ্টা আমি করেছি। আমি আরবি ও সংস্কৃত ভাষার সর্বাধিক প্রসিদ্ধ কীর্তিগুলোর অনুবাদ পড়েছি। আমি দেশে এবং এখানে এমন লোকদের সাথে কথা বলেছি যারা প্রাচ্য ভাষার পান্ডিত্যে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন । প্রাচ্যবিদদেরই মূল্যায়নের ভিত্তিতে আমি প্রাচ্য শিক্ষা গ্রহণ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাদের মধ্যে আমি কখনো এমন কাউকে পাইনি যে এ কথা অস্বীকার করতে পারে যে, ইউরোপের একটি উত্তম লাইব্রেরীর একটি তাক ই ভারত ও আরবের স্থানীয় সমগ্র সাহিত্য ভাণ্ডারের সমান। কমিটির যে সকল সদস্য প্রাচ্য শিক্ষা পরিকল্পনার সমর্থক তারাও পাশ্চাত্য সাহিত্যের অন্তর্নিহিত শ্রেষ্ঠত্বকে পূর্ণভাবে স্বীকার করেন।
It will hardly be disputed, I suppose, that the department of literature in which the Eastern writers stand highest is poetry. And I certainly never met with any Orientalist who ventured to maintain that the Arabic and Sanscrit poetry could be compared to that of the great European nations. But when we pass from works of imagination to works in which facts are recorded, and general principles investigated, the superiority of the Europeans becomes absolutely immeasurable. It is, I believe, no exaggeration to say, that all the historical information which has been collected from all the books written in the Sanscrit language is less valuable than what may be found in the most paltry abridgments used at preparatory schools in England. In every branch of physical or moral philosophy, the relative position of the two nations is nearly the same. আমি মনে করি এ বিষয়ে কেউ খুব একটা দ্বিমত পোষণ করবে না যে, প্রাচ্যের লেখকরা সাহিত্যের যে বিভাগে সর্বোচ্চ স্থান দখল করে আছেন তা হল কাব্য। আমি কখনো এমন কোন প্রাচ্যবিদের সন্ধান পাইনি যে এ কথা বলার সাহস করেছে যে, ইউরোপের উন্নত জাতিসমূহের সাহিত্যের সাথে আরবি ও সংস্কৃত কাব্য সাহিত্যেকে তুলনা করা যেতে পারে। কিন্তু যখনই আমরা কাল্পনিক সাহিত্যকে অতিক্রম করে জ্ঞানের সে সকল শাখায় প্রবেশ করি যেখানে তথ্য সংরক্ষন ও সাধারন নীতিমালা অনুসন্ধানের কাজ সম্পন্ন হয় – সেখানেই ইউরোপীয়দের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পূর্ণভাবে অপরিমেয় হয়ে উঠে। আমি বিশ্বাস করি, এ কথা বললে খুব একটা অত্যুক্তি হবে না যে, সংস্কৃত ভাষায় লিখিত সমস্ত বই থেকে সংগৃহীত সমস্ত ঐতিহাসিক তথ্য ইংল্যান্ডের প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের একেবারে নগন্য মানের সংক্ষিপ্ত বইগুলোতে প্রাপ্ত তথ্যের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ। ভৌতিক ও নৈতিক দর্শনের প্রত্যেকটি শাখায় এই দু’ জাতির অবস্থান প্রায় একই রকম।
How, then, stands the case? We have to educate a people who cannot at present be educated by means of their mother-tongue. We must teach them some foreign language. The claims of our own language it is hardly necessary to recapitulate. It stands pre-eminent even among the languages of the west. It abounds with works of imagination not inferior to the noblest which Greece has bequeathed to us; with models of every species of eloquence; with historical compositions, which, considered merely as nar- ratives, have seldom been surpassed, and which, considered as vehicles of ethical and political instruction, have never been equalled; with just and lively representations of human life and human nature; with the most profound speculations on metaphysics, morals, government, jurisprudence, and trade; with full and correct information respecting every experimental science which tends to preserve the health, to increase the comfort, or to expand the intellect of man. Whoever knows that language has ready access to all the vast intellectual wealth, which all the wisest nations of the earth have created and hoarded in the course of ninety generations. It may safely be said, that the literature now extant in that language is of far greater value than all the literature which three hundred years ago was extant in all the languages of the world together. Nor is this all. In India, English is the language spoken by the ruling class. It is spoken by the higher class of natives at the seats of Government. It is likely to become the language of commerce throughout the seas of the East. It is the language of two great European communities which are rising, the one in the south of Africa, the other in Australasia; communities which are every year becoming more important, and more closely connected with our Indian empire. Whether we look at the intrinsic value of our literature, or at the particular situation of this country, we shall see the strongest reason to think that, of all foreign tongues, the English tongue is that which would be the most useful to our native subjects. তাহলে ব্যাপারটি কী দাড়াচ্ছে ? আমাদেরকে এমন একটি জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে যারা বর্তমানে স্বীয় মাতৃভাষার সাহায্যে শিক্ষালাভ করতে পারবে না। তাদেরকে কয়েকটি বিদেশী ভাষা শিখাতে হবে। আমাদের নিজেদের ভাষা (ইংরেজি) –‘র দাবিটি পুনরায় তুলে ধরার খুব একটা প্রয়োজন নেই। ইংরেজি পাশ্চাত্যের ভাষাসমূহের মধ্যেও সর্বশ্রেষ্ঠ আসন দখল করে আছে। এর মধ্যে পুরো মাত্রায় রয়েছে কল্পনা সাহিত্য যা গ্রীসের মহান উত্তরাধিকারের তুলনায় কোন অংশে কম নয়; সর্ব প্রকার বাগ্মীতার মডেল; ঐতিহাসিক রচনা – নিছক উপাখ্যান হিসেবে যার জুরি খুবই কম এবং নৈতিক ও রাজনৈতিক শিক্ষার বাহন হিসেবে যা অভূতপূর্ব; মানবজীবন ও মানবীয় প্রকৃতির যথার্থ ও প্রানবন্ত উপস্থাপনা; অধিবিদ্যা, নীতিশাস্ত্র, রাষ্ট্র শাসন, আইন দর্শন ও ব্যবসা বিষয়ক সর্বাধিক জ্ঞানগর্ভ ভাবনা; গবেষণা নির্ভর বিজ্ঞানের প্রত্যেকটি শাখার পরিপূর্ণ ও সঠিক তথ্য যা স্বাস্থ্য সুরক্ষা, আরাম বৃদ্ধি বা মানুষের বুদ্ধিমত্তার সম্প্রসারণ প্রয়াসী। এ ভাষা জানা যে কোন লোক পৃথিবীর সর্বাধিক বুদ্ধিমত্তার অধিকারী জাতিসমূহ কর্তৃক প্রাচীনকাল থেকে (বর্তমান সময় পর্যন্ত) সৃষ্ট ও সংগৃহীত বিপুল বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের রাজত্বে অনায়াসে প্রবেশ করতে পারে। নির্বিঘ্নে বলা যেতে পারে, এ ভাষায় বর্তমানে যে সাহিত্য বিদ্যমান তা তিনশো বছর আগে পৃথিবীর সকল ভাষায় সামষ্টিকভাবে বিদ্যমান সমস্ত সাহিত্যের তুলনায় বেশী মূল্যবান। এখানেই শেষ নয়। ভারতে শাসক গোষ্ঠীর কথ্য ভাষা ইংরেজি। শাসনযন্ত্রে আসীন এদেশীয়দের কথ্য ভাষাও এটি। এটি প্রাচ্যের সমুদ্র বানিজ্যের ভাষায় পরিনত হতে যাচ্ছে। দু’টি উদীয়মান ইউরোপীয় সম্প্রদায়ের ভাষা এটি; একটি দক্ষিন আফ্রিকায়, অপরটি অস্ট্রেলিয়ায়। সম্প্রদায় দু’টি প্রতি বছর ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের ভারতীয় সাম্রাজ্যের সাথে অধিকতর সম্পৃক্ত হয়ে উঠছে। আমাদের সাহিত্যের অন্তর্নিহিত মূল্য কিংবা এ দেশের বিশেষ পরিস্থিতি – যে দিকেই তাকাই না কেন সর্বাবস্থায় আমরা এ কথা ভাবার শক্তিশালী কারণ দেখতে পাই যে, সকল বিদেশী ভাষার মধ্যে ইংরেজি ই হচ্ছে আমাদের দেশীয় প্রজাদের জন্য সর্বাধিক উপযোগী।
The question now before us is simply whether, when it is in our power to teach this language, we shall teach languages in which, by universal confession, there are no books on any subject which deserve to be compared to our own; whether, when we can teach European science, we shall teach systems which, by universal confession, whenever they differ from those of Europe, differ for the worse; and whether, when we can patronise sound Philosophy and true History, we shall countenance, at the public expense, medi- cal doctrines, which would disgrace an English farrier,–Astronomy, which would move laughter in girls at an English boarding school,–History, abounding with kings thirty feet high, and reigns thirty thousand years long,–and Geography, made up of seas of treacle and seas of butter. সাধারণভাবে আমাদের সামনে এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ ভাষা শেখানোটা যখন আমাদের ক্ষমতার মধ্যে তখন আমরা কি এমন সব ভাষা শেখাবো যে ভাষায়, সবার স্বীকৃতি অনুযায়ী, কোন বিষয়ের উপর এমন কোন বই নেই যা আমাদের বইয়ের সাথে তুলনা করার যোগ্য; ইউরোপীয় বিজ্ঞান শেখানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমরা কি এমন কিছু শেখাবো যা, সবার স্বীকৃতি অনুযায়ী, ইউরোপীয় বিজ্ঞান থেকে ভিন্নতর হলে কেবল মন্দতর ই হয়; এবং সুস্থ দর্শন ও সঠিক ইতিহাসের পৃষ্ঠপোষকতা করার সামর্থ থাকার পরেও কি আমরা সরকারী খরচে চিকিৎসা শাস্ত্র বিষয়ক এমনসব মতবাদ সমর্থন করতে পারি যা একজন ইংরেজ ফ্যারিয়ার (যে ব্যক্তি ঘোড়ার খুরে নাল পরায়) – ‘র সম্মানহানি করবে, … এমন জ্যোতির্বিজ্ঞান যা ইংরেজ বোর্ডিং স্কুলে মেয়েদের মধ্যে অট্টহাসির সঞ্চার করবে,… এমন ইতিহাস যা ত্রিশ ফুট উঁচু রাজা ও ত্রিশ হাজার বছর দীর্ঘ শাসনকালের আলোচনা দ্বারা পূর্ণ,… এবং এমন ভূগোল যার সাগরগুলো গুড় ও মাখন দ্বারা ভরপুর।
We are not without experience to guide us. History furnishes several analogous cases, and they all teach the same lesson. There are in modern times, to go no further, two memorable instances of a great impulse given to the mind of a whole society,–of prejudices overthrown,–of knowledge diffused,–taste purified,–of arts and sciences planted in countries which had recently been ignorant and barbarous. আমরা এ ব্যাপারে একেবারে অভিজ্ঞতাশূন্য নই। ইতিহাসে কয়েকটি সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনা পাওয়া যায় যা আমাদেরকে একই শিক্ষা দেয়। খুব বেশী দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; আধুনিক কালেরও এমন দু’টি স্মরনীয় উদাহরণ রয়েছে যেখানে পুরো জাতির মানসিকতায় সঞ্চারিত করা হয়েছে বিশেষ প্রণোদনা, উৎপাটিত হয়েছে অনিষ্ট, জ্ঞান হয়েছে সর্ব ব্যাপী, পরিশুদ্ধ হয়েছে রুচিবোধ, আর প্রোথিত হয়েছে বিজ্ঞান ও শিল্পকলা। এসবই ঘটেছে এমন সব দেশে যেগুলো ক’দিন আগেও ছিল অজ্ঞ ও বর্বর।
The first instance to which I refer, is the great revival of letters among the Western nations at the close of the fifteenth and the beginning of the sixteenth century. At that time almost every thing that was worth reading was contained in the writings of the ancient Greeks and Romans. Had our ancestors acted as the Committee of Public Instruction has hitherto acted; had they neglected the language of Cicero and Tacitus; had they confined their attention to the old dialects of our own island; had they print- ed nothing and taught nothing at the universities but Chronicles in Anglo-Saxon, and Romances in Norman-French, would England have been what she now is? What the Greek and Latin were to the contemporaries of More and Ascham, our tongue is to the people of India. The literature of England is now more valuable than that of classical antiquity. I doubt whether the Sanscrit literature be as valuable as that of our Saxon and Norman progenitors. In some departments,–in History, for example, I am certain that it is much less so. প্রথম যে উদাহরণটির দিকে আমি ইংগিত করছি তা পঞ্চদশ শতকের শেষ ভাগ ও ষোড়শ শতকের সূচনালগ্নে পশ্চিমা জাতিসমূহের মধ্যে শিক্ষার ব্যাপক পূনর্জাগরণ সম্পর্কিত। সে সময় পড়ার যোগ্য যা কিছু ছিল তার প্রায় সবকটিই পাওয়া যেত প্রাচীন গ্রীক ও রোমানদের লিখনীতে। আমাদের পূর্বপুরষরা যদি (এখানকার) জনশিক্ষা কমিটির মত আচরণ করতো, সিসেরো (Cicero) ও টেসিটাসের (Tecitus) ভাষাকে অবহেলা করতো, (যদি) তাদের মনোযোগকে আমাদের নিজেদের দ্বীপের প্রাচীন কথ্য ভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতো, এংলো সেক্সনদের রাজ্যশাসন ও নরমান – ফরাসীদের রোমাঞ্চকর  কাহিনী ছাড়া আর কিছুই যদি না ছাপাতো এবং (এগুলো বাদে) বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যদি আর কিছুই না পড়াতো, তাহলে ইংল্যান্ড বর্তমানে যে অবস্থানে আছে সে অবস্থানে থাকতে পারতো কি ? মূর ও আশচামদের সমসাময়িক লোকদের জন্য গ্রীক ও ল্যাটিন ভাষার যে গুরুত্ব ছিল, ভারতের লোকদের জন্য আমাদের ভাষার গুরুত্বও ঠিক তেমনি। বর্তমানে প্রাচীন আমলের সাহিত্যের চেয়ে ইংল্যান্ডের সাহিত্য অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। (এমনকি) আমাদের সেক্সন ও নরম্যান পূর্ব পুরুষদের সাহিত্য যতটুকু মূল্যবান, সংস্কৃত সাহিত্যের ততোটুকু মূল্য আছে বলে আমার মনে হয় না। আমি নিশ্চিত যে, কিছু কিছু বিভাগে (যেমন ইতিহাস) এই সাহিত্য তুলনামূলকভাবে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ।
Another instance may be said to be still before our eyes. Within the last hundred and twenty years, a nation which has previously been in a state as barbarous as that in which our ancestors were before the crusades, has gradually emerged from the ignorance in which it was sunk, and has taken its place among civilized communities.–I speak of Russia. There is now in that country a large educated class, abounding with persons fit to serve the state in the highest ftmctions, and in no wise inferior to the most accomplished men who adorn the best circles of Paris and London. There is reason to hope that this vast empire, which in the time of our grandfathers was probably behind the Punjab, may, in the time of our grandchildren, be pressing close on France and Britain in the career of improvement. And how was this change effected? Not by flattering national prejudices: not by feeding the mind of the young Muscovite with the old women’s stories which his rude fathers had believed: not by filling his head with lying legends about St. Nicholas: not by encouraging him to study the great question, whether the world was or was not created on the 13th of September: not by calling him “a learned native,” when he has mastered all these points of knowledge: but by teaching him those foreign languages in which the greatest mass of information had been laid up, and thus putting all that information within his reach. The languages of Western Europe civilized Russia. I cannot doubt that they will do for the Hindoo what they have done for the Tartar. আরেকটি উদাহরণের ব্যাপারে বলা যেতে পারে যে, এটি এখনো আমাদের চোখের সামনেই আছে। গত একশ বিশ বছরের মধ্যে একটি জাতি – যা আগে আমাদের ক্রসেডপূর্ব যুগের পূর্বপুরুষদের ন্যায় একটি বর্বর রাষ্ট্রে বসবাস করতো – অন্ধকারে নিমজ্জিত অবস্থা থেকে উঠে এসে সভ্য জাতিসমূহের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে ……. আমি রাশিয়ার কথাই বলছি। বর্তমানে সে দেশে রয়েছে একটি বিশাল শিক্ষিত শ্রেণী। এমন লোকও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে যারা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দায়িত্ব পালনে সক্ষম এবং যারা প্যারিস ও লন্ডনের বিদ্বানসভার শোভাবর্ধনকারীদের তুলনায় কোন অংশেই কম নয়। এটা আশা করার যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে যে এই বিশাল সাম্রাজ্য – যা আমাদের পিতৃব্যদের সময়ে সম্ভবত পাঞ্জাবের পেছনে ছিল – আমাদের নাতিদের সময়ে উন্নতির ক্ষেত্রে ফ্রান্স ও বৃটেনের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। এই পরিবর্তনটি কিভাবে আসলো ? নিজেদের অযৌক্তিক চিন্তা-চেতনার পতাকা উড়িয়ে এই পরিবর্তন আসেনি; আসেনি তরুনদেরকে প্রাচীনকালের নারী কাহিনী (যা তাদের অশিক্ষিত পূর্বপুরুষরা বিশ্বাস করতো) গেলানোর মাধ্যমে; সেন্ট নিকোলাস সম্পর্কে মিথ্যা উপাখ্যান দিয়ে মাথা ভর্তি করা; পৃথিবী সেপ্টেম্বরের ১৩ তারিখে সৃষ্টি হয়েছিল কি না মর্মে গবেষণা চালানোর জন্য উদবুদ্ধ করা; অথবা এ সকল বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জনকারীকে ‘স্থানীয় বিদ্বান’ খেতাবে ভূষিত করার মাধ্যমে নয়; বরং (এই পরিবর্তন সাধিত হয়েছে) তাদেরকে এমনসব বিদেশী ভাষা শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে যেগুলোতে রয়েছে জ্ঞানের বিপুল তথ্য। ফলশ্রুতিতে সকল তথ্য তাদের হাতের নাগালে পৌঁছে গেছে। পশ্চিম ইউরোপের ভাষাসমূহ রাশিয়াকে সভ্য করে তুলেছে। সন্দেহ নেই যে, সেসব ভাষা তাতারীদের যে কল্যান সাধন করেছে, হিন্দুদের ক্ষেত্রে সেগুলো তা-ই করবে।
And what are the arguments against that course which seems to be alike recommended by theory and by experience? It is said that we ought to secure the cooperation of the native public, and that we can do this only by teaching Sanscrit and Arabic. তথ্য ও অভিজ্ঞতা সমর্থিত কর্মপদ্ধতির বিরুদ্ধে কী কী যুক্তি রয়েছে? বলা হয়ে থাকে যে, আমাদেরকে স্থানীয় লোকদের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে; আর তা কেবল সংস্কৃত ও আরবী শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমেই হতে পারে।
I can by no means admit that when a nation of high intellectual attainments undertakes to Superintend the education of a nation comparatively ignorant, the learners are absolutely to prescribe the course which is to be taken by the teachers. It is not necessary, however, to say any thing on this subject. For it is proved by unanswerable evidence that we are not at present securing the Cooperation of the natives. It would be bad enough to consult their intellectual taste at the expense of their intellectual health. But we are consulting neither,–we are withholding from them the learning for which they are craving, we are forcing on them the mock-learning which they nauseate. আমি কোনক্রমেই এ কথা স্বীকার করতে পারি না যে, যখন উন্নত বুদ্ধিবৃত্তিক সাফল্যের অধিকারী একটি জাতি তুলনামূলকভাবে অজ্ঞ একটি জাতির শিক্ষাব্যবস্থা তত্তাবধানের দায়ভার গ্রহণ করে, তখন শিক্ষকবৃন্দ কোন পদ্ধতিতে পড়াবেন তা নির্ধারণ করে দেয়ার নিরংকুশ অধিকার কেবল ছাত্রদেরই। যা হোক, এ বিষয়ে আর কিছু বলার প্রয়োজন নেই। কারণ এটি অকাট্য ও প্রামাণ্য সত্য যে, এখন আমরা স্থানীয় লোকদের সহযোগিতা নিশ্চিত করছি না। তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাস্থের দিকে দৃষ্টি না দিয়ে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক রুচিবোধের পরামর্শ গ্রহণ করা হলে তা হবে খুব-ই খারাপ কথা। কিন্তু (বাস্তবে) আমরা কোনটার পরামর্শই গ্রহণ করছি না; — আমরা তাদের কাছ থেকে এমন শিক্ষা প্রত্যাহার করে নিচ্ছি যার জন্য তারা ভয়ানক রকম পিপাসার্ত, অন্যদিকে চাপিয়ে দিচ্ছি এমন এক হাস্যকর শিক্ষা যার প্রতি তাদের বমনেচ্ছা হচ্ছে।
This is proved by the fact that we are forced to pay our Arabic and Sanscrit students, while those who learn Engiish are wiling to pay us. All the declamations in the worid about the love and reverence of the natives for their sacred dialects will never, in the mind of any impartial person, outweigh the undisputed fact, that we cannot find, in all our vast empire, a single student who will let us teach him those dialects unless we will pay him. এ বিষয়টিও এর সত্যতা প্রমাণ করছে যে, আরবি ও সংস্কৃতের ছাত্রদের পেছনে আমাদেরকে টাকা খরচ করতে বাধ্য করা হচ্ছে; অন্যদিকে ইংরেজি শিক্ষার্থীরা উল্টো আমাদেরকে টাকা দিতে প্রস্তুত। নিজস্ব ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সংশ্লিষ্ট পৃথিবীর সকল আবেগপূর্ণ কথামালা কখনো একজন পক্ষপাতদুষ্টতা থেকে মুক্ত ব্যক্তির বিবেচনায় এ বিষয়টির চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না যে, আমাদের বিশাল সাম্রাজ্যের কোথাও এমন একজন ছাত্র খুঁজে পাওয়া যাবে না যে বৃত্তি ছাড়া সেসকল ভাষা শিখতে রাজী হবে।
I have now before me the accounts of the Madrassa for one month,-in the month of December, 1833. The Arabic students appear to have been seventy-seven in number. All receive stipends from the public. The whole amount paid to them is above 500 rupees a month. On the other side of the account stands the following item: Deduct amount realized from the out-students of English for the months of May, June and July last, 103 rupees. আমার সামনে এখন মাদরাসার এক মাসের (ডিসেম্বর, ১৮৩৩) হিসেব রয়েছে। আরবি ছাত্রের সংখ্যা দেখা যাচ্ছে ৭০ এর মত। এরা সবাই সরকারের কাছ থেকে বৃত্তি পেয়ে থাকে। প্রতি মাসে তাদেরকে প্রদত্ত বৃত্তির পরিমাণ ৫০০ রুপির উপরে। হিসেবের অন্য দিকে রয়েছে এই আইটেমটিঃ গত মে, জুন ও জুলাই মাসে ইংরেজির ছাত্রদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ১০৩ রুপি।
I have been told that it is merely from want of local experience that I am surprised at these phenomena, and that it is not the fashion for students in India to study at their own charges. This only confirms me in my opinion. Nothing is more certain than that it never can in any part of the world be necessary to pay men for doing what they think pleasant and profitable. India is no exception to this rule. The people of India do not require to be paid for eating rice when they are hungry, or for wearing woollen cloth in the cold season. To come nearer to the case before us, the children who learn their letters and a little elementary Arithmetic from the village school-master are not paid by him. He is paid for teaching them. Why then is it necessary to pay people to learn Sanscrit and Arabic? Evidently because it is universally felt that the Sanscrit and Arabic are languages, the knowledge of which does not compensate for the trouble of acquiring them. On all such subjects the state of the market is the decisive test. আমাকে বলা হল যে, নিছক স্থানীয় অভিজ্ঞতা না থাকার কারণেই নাকি আমি এসব অবস্থা দেখে চমকে উঠছি, এবং নিজ খরচে লেখাপড়া করা নাকি ভারতীয় ছাত্রদের রীতি নয়। আমার মতে এগুলোই আমার অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করছে। সন্দেহাতীতভাবে এ কথা সত্য যে, কোন আনন্দদায়ক ও লাভজনক কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কোন অর্থ প্রদানের প্রয়োজন নেই; পৃথিবীর কোন অংশেই তার প্রয়োজন নেই। ভারত এই নিয়মের ব্যতিক্রম নয়। ক্ষুধা লাগার কারণে খাবার খেলে কিংবা শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচার জন্য গরম পোষাক পরলে ভারতীয় লোকদেরকে টাকা দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। আমাদের আলোচ্য বিষয়টি আরেকটু কাছ থেকে দেখলে (পরিষ্কার ধরা পড়বে যে,) যে সকল শিশু গ্রাম্য স্কুল শিক্ষকের কাছ থেকে বর্ণমালা ও গণিত শিখছে তারা শিক্ষকের কাছ থেকে কোন টাকা পাচ্ছে না; শিক্ষাদান করার কারণে শিক্ষকই বরং তাদের কাছ থেকে টাকা পাচ্ছেন। তাহলে সংস্কৃত ও আরবি শেখার জন্য লোকদেরকে (সরকারি তহবিল থেকে) টাকা দিতে হবে কেন? এর সুস্পষ্ট কারণ হল, এটা সকলেরই জানা যে আরবি ও সংস্কৃত হচ্ছে এমন দুটি ভাষা যার জ্ঞান তা থেকে উদ্ভূত ক্ষতিকে পুষিয়ে দেয় না।  এসকল বিষয়ের প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে বাজারের চাহিদাই হল চূড়ান্ত পরীক্ষা।
Other evidence is not wanting, if other evidence were required. A petition was presented last year to the Committee by several ex-students of the Sanscrit College. The petitioners stated that they had studied in the college ten or twelve years; that they had made themselves acquainted with Hindoo literature and science; that they had received certificates of proficiency: and what is the fruit of all this! “Notwithstanding such testimonials,” they say, “we have but little prospect of bettering our condition without the kind assistance of your Honorable Committee, the indifference with which we are generally looked upon by our countrymen leaving no hope of encouragement and assistance from them.” They therefore beg that they may be recommended to the Governor General for places under the Government, not places of high dignity or emolument, but such as may just enable them to exist. “We want means,” they say, “for a decent living, and for our progressive improvement, which, however, we cannot obtain without the assistance of Government, by whom we have been educated and maintained from childhood.” They conclude by representing, very pathetically, that they are sure that it was never the intention of Government, after behaving so liberally to them during their education, to abandon them to destitution and neglect. আরো প্রমাণ চাইলে তারও কমতি নেই। গত বছর সংস্কৃত কলেজের কতিপয় প্রাক্তন ছাত্র জনশিক্ষা কমিটির নিকট একটি দরখাস্ত দিয়েছিল। তাতে তারা বলেছিল যে, ঐ কলেজে দশ-বারো বছর লেখাপড়া করে হিন্দু জ্ঞান ও সাহিত্যের সাথে তারা পরিচিতি লাভ করেছে; আর অর্জন করেছে পান্ডিত্যের সনদ। কিন্তু তাতে ফলাফল কী হয়েছে? তারা বলছে, “এসব প্রশংসা পত্র সত্বেও জনশিক্ষা কমিটির সদয় সহযোগিতা ছাড়া আমাদের উন্নতির সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। আমাদের দেশীয় লোকেরা আমাদের প্রতি যে ঔদাসীন্য দেখায় তাতে তাদের কাছ থেকে কোনরূপ উৎসাহ ও সহযোগিতা পাওয়ার আশা করা যায় না।” অতএব তারা এই মর্মে প্রার্থনা করেছে যে, সরকারের অধীনে উচ্চ বেতন
ও পদমর্যাদা সম্পন্ন নয় বরং কোন রকমে বেঁচে থাকার মত চাকুরীর ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য যাতে গভর্নর জেনারেলের কাছে সুপারিশ করা হয়। তারা বলছে, “আমরা প্রগতিশীল উন্নয়ন ও সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা চাই। আর সে ব্যবস্থা সরকারের সহযোগিতা ছাড়া আমরা অর্জন করতে পারব না যার অর্থায়নে আমাদের লেখাপড়া হয়েছে এবং যিনি আমাদেরকে শৈশব থেকে লালন পালন করেছেন।” এই করুণ আর্তি পেশ করার মধ্য দিয়ে তারা তাদের আবেদনের ইতি টেনেছে যে, তারা নিশ্চিত যে শিক্ষাকালীন সময়ে অতটা উদার আচরন করার পর (শিক্ষা পরবর্তী জীবনে) তাদেরকে নিঃস্ব ও অবহেলিত অবস্থায় ফেলে রাখার কোন ইচ্ছে সরকারের কোন সময়েই ছিল না।
I have been used to see petitions to Government for compensation. All these petitions, even the most unreasonable of them, proceeded on the supposition that some loss had been sustained- that some wrong had been inflicted. These are surely the first petitioners who ever demanded compensation for having been educated gratis, for having been supported by the public during twelve years, and then sent forth into the world well furnished with literature and science. They represent their education as an injury which gives them a claim on the Government for redress, as an injury for which the stipends paid to them during the infliction were a very inadequate compensation. And I doubt not that they are in the right. They have wasted the best years of life in learning what procures for them neither bread nor respect. Surely we might, with advantage, have saved the cost of making these persons useless and miserable; surely, men may be brought up to be burdens to the public and objects of contempt to their neighbours at a somewhat smaller charge to the state. But such is our policy. We do not even stand neuter in the contest between truth and falsehood. We are not content to leave the natives to the influence of their own hereditary prejudices. To the natural difficulties which obstruct the progress of sound science in the East, we add fresh difficulties of our own making. Bounties and premiums, such as ought not to be given even for the propagation of truth, we lavish on false taste and false philosophy. ক্ষতিপূরণ চেয়ে সরকারের কাছে দরখাস্ত প্রদান দেখতে দেখতে আমি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এসকল আবেদনের সবগুলিই (এমনকি এদের সবচেয়ে অযৌক্তিক দরখাস্তটিও) এই ভেবে জমা দেওয়া হয় যে “কিছু ক্ষতি সাধিত হয়েছে” কিংবা “কোন অন্যায় তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে”। নিঃসন্দেহে এরাই প্রথম আবেদনকারী যারা বিনামূল্যে শিক্ষাপ্রাপ্ত হওয়া এবং বার বছর সরকারের অর্থায়নে শিক্ষা লাভ করে সাহিত্য ও বিজ্ঞান সুশোভিত জগতে পৌঁছে যাবার কারণেও ক্ষতিপূরণ দাবী করেছিল। তারা তাদের শিক্ষাকে দেখায় একটি ক্ষতি হিসেবে যার উপর ভিত্তি করে তারা সরকারের কাছে এর ক্ষতিপূরণ চায়; এমন এক ক্ষতি যার জন্য এই ক্ষতি আরোপকালীন সময়ে তাদেরকে প্রদত্ত বৃত্তিসমূহও ছিল খুবই অপর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ। আমার কোন সন্দেহ নেই যে তাদের অবস্থান সঠিক। (কারণ) তারা তাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকু নষ্ট করেছে এমন কিছু শেখার পেছনে যা তাদের জন্য সম্মান ও রুজি – কোনটাই নিয়ে আসছে না। এই লোকগুলোকে অথর্ব ও দুস্থ বানানোর পেছনে যে টাকা-পয়সা খরচ হয়েছে- ইচ্ছে করলে আমরা অবশ্যই তা কলানজনকভাবে বাঁচাতে পারতাম। তুলনামূলকভাবে রাষ্ট্রের কম পয়সা খরচ করেই লোকদেরকে জনগনের বোঝা ও সহ-নাগরিকদের ঘৃণার পাত্র বানানো যায়। কিন্তু আমাদের নীতি এমনই। এমনকি, সত্য ও মিথ্যার দ্বন্দেও আমরা ক্লীব হয়ে থাকি না। স্থানীয় লোকদেরকে নিজস্ব উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত গোঁড়ামির প্রভাবাধীন থাকতে দিতে রাজী নই আমরা। প্রাচ্যে সুস্থ বিজ্ঞানের অগ্রগতিকে ব্যাহতকারী প্রাকৃতিক জটিলতার সাথে আমরা নতুন করে আমাদের নিজস্ব জটিলতা যোগ করে দেই। সত্য প্রচারের জন্যেও যে বদান্যতা ও পারিতোষিক দেয়া হয় না, তা-ই আমরা উজার করে ঢেলে দিয়ে থাকি মিথ্যা রুচিবোধ ও ভ্রান্ত দর্শনের উপর।
By acting thus we create the very evil which we fear. We are making that opposition which we do not find. What we spend on the Arabic and Sanscrit colleges is not merely a dead loss to the cause of truth; it is bounty-money paid to raise up champions of error. It goes to form a nest, not merely of helpless place-hunters, but of bigots prompted alike by passion and by interest to raise a cry against every useful scheme of education. If there should be any opposition among the natives to the change which I recommend, that opposition will be the effect of our own system. It will be headed by persons supported by our stipends and trained in our colleges. The longer we persevere in our present course, the more formidable will that opposition be. It will be every year reinforced by recruits whom we are paying. From the native society left to itself, we have no difficulties to apprehend; all the murmuring will come from that oriental interest which we have, by artificial means, called into being, and nursed into strength. এরূপ পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা মূলত সেই অনিষ্ট সৃষ্টি করছি যার আশংকা আমরা করে থাকি। আমরা এমন এক বিরোধী শক্তি সৃষ্টি করে চলেছি যা আমরা (অন্য কোথাও) খুঁজে পাই না। আরবি ও সংস্কৃত কলেজসমূহে আমরা যা কিছু খরচ করছি তা যে সত্যের পথে কেবল বাজে খরচ তা-ই নয়; এ যেন রীতিমত বদান্যতার টাকা দিয়ে ভুলের পণ্ডিত তৈরী করার মহোৎসব। এই শিক্ষাব্যবস্থা একটি নীড় তৈরী করতে যাচ্ছে, যেখানে কেবল অসহায় বাস্তুসন্ধানীরাই আশ্রয় নিবে না; সেখানে আস্তানা গড়ে উঠবে এমনসব আবেগতাড়িত ও স্বার্থান্বেষী ধর্মান্ধের যারা শিক্ষার প্রত্যেকটি দরকারী প্রকল্পের বিরুদ্ধে হৈ চৈ শুরু করে দিবে। আমি যে পরিবর্তনের কথা বলছি তার ব্যাপারে যদি স্থানীয় লোকদের মধ্যে কোন প্রকার বিরোধী মনোভাব সৃষ্টি হয়, তাহলে তা হবে আমাদের এতদিনকার চালু রাখা শিক্ষাব্যবস্থার ফল। বিরোধীতার অগ্রভাগে দেখা যাবে সেসব লোককে যারা আমাদের বৃত্তির টাকায় আমাদেরই কলেজগুলোতে শিক্ষা লাভ করেছে। যত দীর্ঘ সময় আমরা আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখবো, বিরোধিতাও তত দুর্দান্ত হয়ে উঠবে। যাদের লেখাপড়ার পেছনে এখন আমরা টাকা খরচ করছি, তারাই প্রতি বছর নতুন করে ঐ বিরোধিতাকে চাঙ্গা করে তুলবে। বাদ বাকি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর,  যারা নিজেদের চিন্তা নিজেরাই করে, [অর্থাৎ যারা খুব একটা ঐতিহ্য সচেতন নয়] কাছ থেকে কোন জটিলতার আশংকা নেই। যতসব অসন্তোষ ও বিড়বিড়ানি বেরিয়ে আসবে সেই প্রাচ্যাসক্তি থেকে যাকে আমরা কৃত্রিমভাবে জন্ম দিয়ে এতোদিনে বলবান করে তুলেছি।
There is yet another fact, which is alone sufficient to prove that the feeling of the native public, when left to itself, is not such as the supporters of the old system represent it to be. The Committee have thought fit to lay out above a lac of rupees in printing Arabic and Sanscrit books. Those books find no purchasers. It is very rarely that a single copy is disposed of. Twenty-three thousand volumes, most of them folios and quartos, fill the libraries, or rather the lumber-rooms, of this body. The Committee contrive to get rid of some portion of their vast stock of oriental literature by giving books away. But they cannot give so fast as they print. About twenty thousand rupees a year are spent in adding fresh masses of waste paper to a hoard which, I should think, is already sufficiently ample. During the last three years, about sixty thousand rupees have been expended in this manner. The sale of Arabic and Sanscrit books, during those three years, has not yielded quite one thousand rupees. In the mean time the School- book Society is selling seven or eight thousand English volumes every year, and not only pays the expenses of printing, but realises a profit of 20 per cent. on its outlay. আরেকটি বাস্তবতা বাকি আছে যা একাই একথা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট যে, স্থানীয় জনসাধারণকে (ঐতিহ্যের উদাসীনতায়) ছেড়ে দেয়া হলে দেখা যাবে পুরনো শিক্ষাব্যবস্থার সমর্থকেরা যে অনুভূতিকে স্থানীয় জনসাধারণের অনুভূতি হিসেবে উপস্থাপন করছে, আসলে তাদের অনুভূতি সেরকম নয়। আরবি ও সংস্কৃত বই মুদ্রণের জন্য(জনশিক্ষা) কমিটি এক  লাখেরও বেশী রূপী বরাদ্দ রাখাকে যথার্থ মনে করেছে। (অথচ) এসব বইয়ের কোন ক্রেতা নেই। কদাচিত এক-আধটি বই বিক্রি/হস্তান্তর হয়ে থাকে। এরকম তেইশ হাজার বই দিয়ে ভরপুর হয়ে আছে লাইব্রেরী তথা অকেজো জঞ্জালখানাগুলো, যার বেশীরভাগই হল কেবল দু’-চার পৃষ্ঠার ফর্দ। কিছু বই বিনামূল্যে ছেড়ে দিয়ে প্রাচ্য সাহিত্যের বিশাল ভাণ্ডারের কিয়দংশ থেকে জঞ্জালমুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে (জনশিক্ষা) কমিটি। কিন্তু এ (জনশিক্ষা) কমিটি যত দ্রুত বই ছাপাতে পারে তত দ্রুত বিলাতে পারে না। যে ভাণ্ডারকে আমি ইতোমধ্যেই খুবই পর্যাপ্ত হয়ে গেছে বলে মনে করি, সে ভাণ্ডারে বাতিল কাগজের স্তুপ যোগ করার পেছনে প্রতি বছর প্রায় তেইশ হাজার রূপি খরচ করা হচ্ছে। গত তিন বছরে এভাবে প্রায় ষাট হাজার রূপি খরচ হয়েছে। ঐ তিন বছরে আরবি ও সংস্কৃত বই বিক্রি করে এক হাজার টাকাও আয় হয় নি। ইতোমধ্যে স্কুল বুক সোসাইটি প্রতি বছর সাত আট হাজার ইংরেজি বই বিক্রি করে কেবল যে মুদ্রণ ব্যয় যোগাচ্ছে তা-ই নয়; বরং খরচের বিশ শতাংশ মুনাফাও অর্জন করছে।
The fact that the Hindoo law is to be learned chiefly from Sanscrit books, and the Mahomedan law from Arabic books, has been much insisted on, but seems not to bear at all on the question. We are commanded by Parliament to ascertain and digest the laws of India. The assistance of a law Commission has been given to us for that purpose. As soon as the code is promulgated, the Shasster and the Hedaya will be useless to a Moonsiff or Sudder Ameen. I hope and trust that before the boys who are now entering at the Madrassa and the Sanscrit college have completed their studies, this great work will be finished. It would be manifestly absurd to educate the rising generation with a view to a state of things which we mean to alter before they reach manhood. যে বিষয়টির উপর বেশ জোর দেয়া হয়েছে তা হল এই যে, হিন্দু আইন মূলত সংস্কৃত বই এবং মোহাম্মদী আইন আরবি বই থেকে শিখতে হয়। কিন্তু আমাদের আলোচ্য বিষয়ের সাথে এর মোটেই কোন সম্পর্ক নেই। বৃটিশ পার্লামেন্ট আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের আইন নির্ধারণ ও বিধিবদ্ধকরণের। এ উদ্দেশ্যে একটি আইন কমিশনের সহযোগিতা আমাদেরকে দেয়া হয়েছে। একটি কোড তৈরী হয়ে গেলেই মুনসিফ ও সদর আমিনদের জন্য শাস্ত্র ও হেদায়া অকেজো হয়ে পড়বে। আমার আশা ও দৃঢ় বিশ্বাস এই যে, যে সকল ছেলে এখন মাদরাসা ও সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হচ্ছে তাদের শিক্ষা শেষ হবার আগেই এ (কোড তৈরীর) মহান কাজটি সম্পন্ন হয়ে যাবে। উদীয়মান প্রজন্মকে এমন অবস্থার আলোকে শিক্ষা দেয়ার বিষয়ট হবে একেবারে অদ্ভূত  যে অবস্থাকে আমরা তাদের যৌবনে পৌঁছার পূর্বেই বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
But there is yet another argument which seems even more untenable. It is said that the Sanscrit and Arabic are the languages in which the sacred books of a hundred millions of people are written, and that they are, on that account, entitled to peculiar encouragement. Assuredly it is the duty of the British Government in India to be not only tolerant, but neutral on all religious questions. But to encourage the study of a literature admitted to be of small intrinsic value, only because that literature inculcates the most serious errors on the most important subjects, is a course hardly reconcilable with reason, with morality, or even with that very neutrality which ought, as we all agree, to be sacredly preserved. It is confessed that a language is barren of useful know- ledge. We are to teach it because it is fruittul of monstrous superstitions. We are to teach false History, false Astronomy, false Medicine, because we find them in company with a false religion. We abstain, and I trust shall always abstain, from giving any public encouragement to those who are engaged in the work of converting natives to Christianity. And while we act thus, can we reasonably and decently bribe men out of the revenues of the state to waste their youth in learning how they are to purify themselves after touching an ass, or what text of the Vedas they are to repeat to expiate the crime of killing a goat? তবে আরেকটি যুক্তি রয়ে গেছে যা আরো বেশী অসমর্থনযোগ্য মনে হচ্ছে। এটা বলা হয়ে থাকে যে, সংস্কৃত ও আরবি হচ্ছে এমন দু’টি ভাষা যে ভাষায় লেখা আছে কোটি কোটি মানুষের পবিত্র গ্রন্থাবলী এবং সে কারণে ঐ ভাষাগুলো বিশেষ প্রণোদনার উপযুক্ত। নিঃসন্দেহে, সকল ধর্মীয় বিষয়ে কেবল সহনশীল নয়, বরং নিরপেক্ষ থাকা ভারতে বৃটিশ সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু, কোন সাহিত্যের স্বকীয় মূল্য কম বলে মেনে নেয়ার পরও ‘ঐ সাহিত্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলীতে সর্বাধিক ভুল (তথ্য) মনের মধ্যে গেঁথে দেয়’ নিছক এ কারণে তার অধ্যয়নকে উৎসাহিত করার ব্যাপারটি  সুবুদ্ধি, নৈতিকতা ও এমনকি নিরপেক্ষতার (যা পবিত্রতার সাথে সংরক্ষনের ব্যাপারে আমরা সবাই একমত) নীতির সাথে সমন্বয়ের প্রায় অযোগ্য। এটি স্বীকার করা হয় যে, একটি ভাষা দরকারী জ্ঞান থেকে সম্পূর্ণ খালি। (তারপরও) আমরা তা শিখাবো এজন্য যে এটি ভয়ংকর কুসংস্কারের জন্য ফলপ্রদ। আমাদেরকে মিথ্যা ইতিহাস, মিথ্যা জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মিথ্যা চিকিৎসা শাস্ত্র শেখাতে হবে – কারণ, এগুলোকে আমরা একটি মিথ্যা ধর্মের সহচর হিসেবে পাই। স্থানীয় লোকদেরকে খ্রীস্টবাদে দীক্ষাদানে জড়িতদেরকে আমরা সরকারীভাবে উৎসাহদান করা থেকে বিরত আছি, এবং, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা সবসময় তা থেকে বিরত থাকবো। (খ্রীস্টান মিশনারীদের সাথে) এরূপ আচরণ অব্যাহত রাখার সময় “গাধা স্পর্শ করার পর কীভাবে নিজেকে পবিত্র করতে হবে” অথবা “ছাগল হত্যার অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করতে বেদের কোন শ্লোক বার বার পড়তে হবে” – এসব শেখার পেছনে যৌবনকাল নষ্ট করার জন্য আমরা কি সুবুদ্ধি ও ন্যায়-নিষ্ঠার সাথে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব থেকে কিছু লোককে উৎকোচ দিতে পারি?
It is taken for granted by the advocates of Oriental learning, that no native of this country can possibly attain more than a mere smattering of English. They do not attempt to prove this; but they perpetually insinuate it. They designate the education which their opponents recommend as a mere spelling book education. They assume it as undeniable, that the question is between a profound knowledge of Hindoo and Arabian literature and science on the one side, and a superficial knowledge of the rudiments of English on the other. This is not merely an assumption, but an assumption contrary to all reason and experience. We know that foreigners of all nations do learn our language sufficiently to have access to all the most abstruse knowledge which it contains, sufficiently to relish even the more delicate graces of our most idiomatic writers. There are in this very town natives who are quite competent to discuss political or scientific questions with fluency and precision in the English language. I have heard the gentlemen with a liberality and an intelligence which would do credit to any member of the Committee of Public Instruction. Indeed it is unusual to find, even in the literary circles of the continent, any foreigner who can express himself in English with so much facility and correctness as we find in many Hindoos. Nobody, I suppose, will contend that English is so difficult to a Hindoo as Greek to an Englishman. Yet an intelligent English youth, in a much smaller number of years than our unfortunate pupils pass at the Sanscrit college, becomes able to read, to enjoy, and even to imitate, not unhappily, the compositions of the best Greek Authors. Less than half the time which enables an English youth to read Herodotus and Sophocles, ought to enable a Hindoo to read Hume and Milton. প্রাচ্য শিক্ষার সমর্থকরা মেনে নিচ্ছে যে, স্থানীয় কোন লোকের পক্ষেই ইংরেজির ভাসা ভাসা জ্ঞান ছাড়া আর কিছুই অর্জন করা সম্ভব নয়। প্রমাণ করার চেষ্টা ব্যতিরেকেই তারা এ ধারণাটিকে হৃদয়ে স্থায়ীভাবে বদ্ধমূল করে নিচ্ছে। তাদের প্রতিপক্ষ যে শিক্ষার প্রস্তাব দিচ্ছে তাকে তারা নিছক বানান বইয়ের (spelling book) শিক্ষা বলে অভিহিত করছে। তারা অনস্বীকার্যভাবে ধরে নিচ্ছে যে, এটি হল এমন এক প্রশ্ন যার একপাশে আছে হিন্দু ও আরবীয় সাহিত্য ও বিজ্ঞানের গভীর জ্ঞান, আর অন্যপাশে রয়েছে ইংরেজির প্রাথমিক বিষয়াবলীর অগভীর জ্ঞান। এ যে নিছক একটি ধারণা – তা-ই নয়; এটি সুবুদ্ধি ও অভিজ্ঞতারও বিরোধী। আমরা জানি যে, সব জাতির লোকই আমাদের ভাষা এতোটা পর্যাপ্ত পরিমাণে শিখে নেয় যার ফলে তারা এ ভাষার সবচেয়ে দুর্বোধ্য জ্ঞানের প্রবেশাধিকার লাভ করে এবং এমনকি আমাদের সর্বাধিক বাকরীতিপটু লেখকদের অধিকতর সূক্ষ্ণ রসবোধকেও উপভোগ করতে পারে। এই (কলকাতা) শহরেই স্থানীয় অনেক লোক আছে যারা ইংরেজি ভাষায় বাগ্মীতা ও নির্ভুলতা সহকারে রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক বিষয়াবলী আলোচনা করতে যথেষ্ট সক্ষম। আমি বেশ কিছু ভদ্রলোকের সংস্কারমুক্তি ও বুদ্ধিমত্তার কথা শুনেছি যা জনশিক্ষা কমিটির যে কোন সদস্যের সুনাম বৃদ্ধি করবে। গোটা মহাদেশের শিক্ষিত সম্প্রদায়ের মধ্যেও এমন একজন অ-ইংরেজ খুঁজে পাওয়া অস্বাভাবিক যে হিন্দুদের মত বিশুদ্ধ ও সাবলীল ইংরেজিতে নিজের ভাব প্রকাশ করতে পারে। আমি মনে করি, এ বিষয়ে কারো দ্বিমত নেই যে একজন ইংরেজের জন্য গ্রীক ভাষা যত কঠিন, একজন হিন্দুর জন্য ইংরেজি ভাষাও ঠিক ততটাই কঠিন। তবুও আমাদের হতভাগা ছাত্ররা সংস্কৃত কলেজ থেকে পাশ করার জন্য যে সময় ব্যয় করে তার চেয়ে অনেক কম সময়ের মধ্যেই আমাদের বুদ্ধিমান ইংরেজ যুবকরা শ্রেষ্ঠ গ্রীক লেখকদের রচনাবলী পড়ে উপভোগ করতে পারে; এমনকি আনন্দদায়কভাবে অনুসরণও করতে পারে। হেরোডোটাস ও সফোক্লিস পাঠ করতে একজন ইংরেজ যুবকের যে পরিমাণ সময় লাগে তার অর্ধেকের কম সময়ের মধ্যেই একজন হিন্দুকে হিউম ও মিল্টন পাঠ শিখতে হবে।
To sum up what I have said, I think it clear that we are not fettered by the Act of Parliament of 1813; that we are not fettered by any pledge expressed or implied; that we are free to employ our funds as we choose; that we ought to employ them in teaching what is best worth knowing; that English is better worth knowing than Sanscrit or Arabic; that the natives are desirous to be taught English, and are not desirous to be taught Sanscrit or Arabic; that neither as the languages of law, nor as the languages of religion, have the Sanscrit and Arabic any peculiar claim to our engagement; that it is possible to make natives of this country thoroughly good English scholars, and that to this end our efforts ought to be directed. আমি এতোক্ষণ যা বলেছি তার সার সংক্ষেপঃ আমি মনে করি এ সকল বিষয় সুস্পষ্ট যে, (১) ১৮১৩ সালের সংসদীয় আইনটি আমাদেরকে বেঁধে রাখে নি; (২) প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ কোন প্রতিশ্রুতি দ্বারা আমরা আবদ্ধ নই; (৩) আমাদের পছন্দমত খাতে আমাদের তহবিলসমূহ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা স্বাধীন; (৪) সর্বাধিক উপযোগী জ্ঞান শিখানোর কাজেই সেই তহবিলসমূহ ব্যবহার করা করা উচিত; (৫) সংস্কৃত ও আরবির তুলনায় ইংরেজি বেশী উপযোগী; (৬) স্থানীয় লোকজন ইংরেজি শিখতে আগ্রহী এবং সংস্কৃত ও আরবি শিখতে তারা আগ্রহী নয়; (৭) আইনের ভাষা কিংবা ধর্মের ভাষা হিসেবে  আমাদের অঙ্গীকারে সংস্কৃত ও আরবির কোন বিশেষ অধিকার নেই; (৮) এ দেশের স্থানীয় লোকদেরকে ইংরেজির খুবই ভালো মানের পণ্ডিত বানানো সম্ভব এবং এ দিকেই আমাদের প্রচেষ্টাসমূহ পরিচালিত হতে হবে।
In one point I fully agree with the gentlemen to whose general views I am opposed. I feel with them, that it is impossible for us, with our limited means, to attempt to educate the body of the people. We must at present do our best to form a class who may be interpreters between us and the millions whom we govern; a class of persons, Indian in blood and colour, but English in taste, in opinions, in morals, and in intellect. To that class we may leave it to refine the vernacular dialects of the country, to enrich those dialects with terms of science borrowed from the Western nomenclature, and to render them by degrees fit vehicles for conveying knowledge to the great mass of the population. যে সকল ভদ্র লোকের সাধারণ মতামতের সাথে আমার দ্বিমত রয়েছে, একটি বিষয়ে আমি তাদের সাথে সম্পূর্ণ একমত। তাদের সাথে আমি নিজেও অনুভব করি যে, আমাদের সীমিত সম্পদ দিয়ে গোটা জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত করার প্রচেষ্টা চালানো অসম্ভব। বর্তমানে আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে এমন এক শ্রেণীর লোক তৈরী করার জন্য যারা আমাদের এবং আমাদের লক্ষ লক্ষ প্রজার মধ্যে দোভাষীর কাজ করতে পারবে; এমন এক শ্রেণীর লোক যারা রক্ত ও রঙে হবে ভারতীয়, কিন্তু রুচিবোধ, মতামত, নৈতিকতা এবং বুদ্ধিমত্তায় হবে ইংরেজ। স্থানীয় ভাষাসমূহ পরিশোধনের কাজ আমরা এই শ্রেণীর লোকদের কাছে রেখে যাব, যাতে তারা পশ্চিমা পরিভাষাসমূহ থেকে ধার করা বৈজ্ঞানিক শব্দ দিয়ে ঐ সকল ভাষাকে সমৃদ্ধ করে ক্রমশ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে জ্ঞান পৌঁছে দেয়ার মোক্ষম বাহনে পরিণত করতে পারে।
I would strictly respect all existing interests. I would deal even generously with all individuals who have had fair reason to expect a pecuniary provision. But I would strike at the root of the bad system which has hitherto been fostered by us. I would at once stop the printing of Arabic and Sanscrit books, I would abolish the Madrassa and the Sanscrit college at Calcutta. Benares is the great seat of Brahmanical learning; Delhi, of Arabic learning. If we retain the Sanscrit college at Benares and the Mahometan college at Delhi, we do enough, and much more than enough in my opinion, for the Eastern languages. If the Benares and Delhi colleges should be retained, I would at least recommend that no stipends shall be given to any students who may hereafter repair thither, but that the people shall be left to make their own choice between the rival systems of education without being bribed by us to learn what they have no desire to know. The funds which would thus be placed at our disposal would enable us to give larger encouragement to the Hindoo college at Calcutta, and to establish in the principal cities throughout the Presidencies of Fort William and Agra schools in which the English language might be well and thoroughly taught. বিদ্যমান সকল স্বার্থকে আমি যথাযথভাবে সম্মান করবো। এমনকি, আমি সে সকল লোকের সাথে উদারভাবেই আচরণ করবো যারা সঙ্গত কারণে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার আশা পোষণ করেছিল। কিন্তু, এবার আমি সেই খারাপ ব্যবস্থার মূলে কুঠারাঘাত করবো যা এতোদিন আমাদের (সাবেক গভর্নরদের) দ্বারা লালিত পালিত হয়েছে। আমি এক্ষনি আরবি ও সংস্কৃত বই ছাপানো বন্ধ করে দিবো;  বিলুপ্ত করে দিবো কলকাতার আলিয়া মাদরাসা ও সংস্কৃত কলেজ। বেনারস হল ব্রাম্মণ্যবাদী শিক্ষার বিশাল কেন্দ্র; এমনিভাবে আরবি শিক্ষার জন্য দিল্লী। আমরা যদি বেনারসের সংস্কৃত কলেজ ও দিল্লীর মোহামেডান কলেজ অক্ষত রেখে দেই, তাহলে আমার মতে তা হবে প্রাচ্য ভাষাসমূহের জন্য অনেক বেশী যথেষ্ট। যদি বেনারস ও দিল্লীর কলেজ দু’টি অক্ষত রাখতে হয়, তাহলে আমি কমপক্ষে এতটুকু সুপারিশ অবশ্যই করবো যে, এরপর থেকে যে ছাত্র ঐসব কলেজে যাবে তাকে আর কোন বৃত্তি দেয়া হবে না। যেগুলো জানার প্রতি কোন আগ্রহ নেই সেগুলো জানার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে কাউকে ঘুষ না দিয়ে বরং দুই প্রতিদ্বন্দী শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য থেকে যে কোন একটিকে নিজেদের ইচ্ছেমত বাছাই করার জন্য লোকদেরকে ছেড়ে দিতে হবে। এভাবে যেসব তহবিল আমাদের মাধ্যমে খরচের জন্য রাখা হবে তা কলকাতার হিন্দু কলেজে আরো অধিক প্রণোদনা দিতে আমাদেরকে সাহায্য করবে। ফোর্ট উইলিয়াম ও আগ্রা প্রেসিডেন্সীর প্রধান প্রধান শহরগুলোতে পুরোদমে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সেই তহবিল যথেষ্ট কাজে দিবে।
If the decision of his Lordship in Council should be such as I anticipate, I shall enter on the performance of my duties with the greatest zeal and alacrity. If, on the other hand, it be the opinion of the Government that the present system ought to remain unchanged, I beg that I may be permitted to retire from the chair of the Committee. I feel that I could not be of the smallest use there–I feel, also, that I should be lending my countenance to what I firmly believe to be a mere delusion. I believe that the present system tends, not to accelerate the progress of truth, but to delay the natural death of expiring errors. I conceive that we have at present no right to the respectable name of a Board of Public Instruction. We are a Board for wasting public money, for printing books which are of less value than the paper on which they are printed was while it was blank; for giving artificial encouragement to absurd history, absurd metaphysics, absurd physics, absurd theology; for raising up a breed of scholars who find their scholarship an encumbrance and a blemish, who live on the public while they are receiving their education, and whose education is so utterly useless to them that when they have received it they must either starve or live on the public all the rest of their lives. Entertaining these opinions, I am naturally desirous to decline all share in the responsibility of a body, which unless it alters its whole mode of proceeding, I must consider not merely as useless, but as positively noxious. আমি যেমনটা প্রত্যাশা করছি গভর্নর জেনারেল মহোদয়ের সিদ্ধান্ত যদি সেরকমই হয়, তাহলে সর্বোচ্চ মাত্রার উদ্যম ও উৎসাহ নিয়ে আমি আমার দায়িত্ব পালনে উঠে পড়ে লাগবো। কিন্তু, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা অপরিবর্তিত রাখা যদি সরকারের ইচ্ছে হয়ে থাকে, তাহলে শিক্ষা কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে আমাকে পদত্যাগের অনুমতি দেয়া হোক। আমি মনে করি (বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে) এখানে আমি কোন ন্যুনতম কাজেও লাগবো না। আরো মনে করি, এমতাবস্থায় আমাকে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থাকে সমর্থন করতে হবে যাকে আমি পূর্ণ দৃঢ়তার সাথেই নিছক একটি মতিভ্রম ও প্রতারণা মনে করি। আমি বিশ্বাস করি, বর্তমানে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাটি সত্যের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করছে না; বরং মেয়াদোত্তীর্ণ মিথ্যার স্বাভাবিক মৃত্যুকে বিলম্বিত করছে। আমার ধারণা, জনশিক্ষা বোর্ড নামক সম্মানজনক নামটি এখন আর ব্যবহার করার কোন অধিকার আমাদের নেই। আমরা হচ্ছি সরকারী টাকা অপচয়কারী একটি বোর্ড যার কাজ হলঃ (১) এমন বই ছাপানো যেগুলো মুদ্রণপূর্ব খালি কাগজের তুলনায় কম মূল্যবান; (২) উদ্ভট ইতিহাস, অদ্ভূত অধিবিদ্যা, আজগুবি পদার্থবিজ্ঞান ও হাস্যকর ধর্মতত্ত্বের প্রতি কৃত্রিম উৎসাহ প্রদান এবং (৩) এমন এক প্রজাতির পণ্ডিত তৈরী করা যারা স্বীয় পাণ্ডিত্যকে একটি বোঝা ও কলঙ্ক হিসেবে দেখতে পায়, যারা শিক্ষা গ্রহণকালে সরকারী টাকায় খেয়ে বাঁচে এবং যাদের শিক্ষা তাদের নিজেদের কাছেই এতোটা অকেজো যে, তারা যেহেতু একবার এ শিক্ষা গ্রহণ করে ফেলেছে এখন তাদেরকে হয় না খেয়ে মরতে হবে নতুবা বাকি জীবন সরকারের টাকায় খেয়ে বাঁচতে হবে। এসব মত দেয়ার ফলে এমন একটি সংস্থার কোন প্রকারের দায় দায়িত্ব নিতে আমি স্বভাবতই আগ্রহী নই, যে সংস্থাকে আমি (তার সম্পূর্ণ কার্যপদ্ধতি পরিবর্তন করার আগ পর্যন্ত) কেবল অর্থহীন নয়, বরং নিশ্চিত ক্ষতিকর মনে করি।
T[homas] B[abington] MACAULAY

2nd February 1835.

I give my entire concurrence to the sentiments expressed in this Minute.

W[illiam] C[avendish] BENTINCK.

From: Bureau of Education. Selections from Educational Records, Part I (1781-1839).  Edited by H. Sharp.  Calcutta: Superintendent, Government Printing, 1920. Reprint. Delhi: National Archives of India, 1965, 107-117.

Leave a comment

Filed under Uncategorized

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s