নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ও দ্বৈত সার্বভৌমত্বের সংঘাতঃ প্রসংগ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধ (Emergence of a New State and the Conflict of Dual Sovereigns: Case of War Crimes and Crimes against Humanity)

সূচীপত্র

ভূমিকাঃ

আইন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নঃ

১৯৭১ সালের যুদ্ধের প্রকৃতিঃ

দালাল আদেশঃ

আবুল মনসুর আহমদের মূল্যায়নঃ

স্বাধীনতা বিরোধীতা বনাম যুদ্ধাপরাধঃ

দায়মুক্তি আদেশঃ

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রচেষ্টাঃ ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন, ১৯৭৩’

সিমলা চুক্তিঃ

দিল্লী চুক্তিঃ

সাধারণ ক্ষমাঃ

দালাল আদেশ রহিতকরণঃ

এক নজরে আইনগত পদক্ষেপ সমূহঃ

মীমাংসীত ইস্যুর পুনরুত্থান (Resurrection) প্রেক্ষাপট:

কেন ‘বিশেষ’ ট্রাইবুনালের প্রয়োজন?

দিনবদলের সরকার ও যুদ্ধাপরাধের বিচারঃ

‘যুদ্ধাপরাধী’ থেকে ‘মানবতা বিরোধী’:

দলমত নির্বিশেষে ‘অপরাধী’র বিচারের পূর্বাভাষ!

 

 

চিত্র

 

চিত্র ১: যুদ্ধ চলাকালে অখণ্ড রাষ্ট্রের ‘দুশমন’ হিসেবে হত্যাকাণ্ডের নির্মম শিকার

চিত্র ২:প্রকাশ্য রাজপথে ‘দালাল’ বধ উৎসব

নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ও দ্বৈত সার্বভৌমত্বের সংঘাতঃ

প্রসংগ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধ

(Emergence of a New State and the Conflict of Dual Sovereigns: Case of War Crimes and Crimes against Humanity)

 

অপরাধের বিচার হতে হবেন্যায়বিচারের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কোন ব্যক্তি ই এর সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারে না। আর যুদ্ধাপরাধ! তা তো নিঃসন্দেহে একটি ঘৃন্যতম অপরাধ-যার বিচার হওয়া অত্যন্ত জরুরী। তবে স্বাধীন বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে বিগত ৩৮ বছর ধরে নোংরা রাজনীতির যে বীভৎস চিত্র আমরা দেখেছি তা জাতি হিসেবে আমাদের ব্যর্থতারই একটি দিক মাত্র। আমরা চাই এর একটি স্থায়ী ও গ্রহনযোগ্য সমাধান হোক। 

আন্তর্জাতিক  আইন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান – উভয় দিক দিয়েই ১৯৭১ সালের যুদ্ধ বিশ্বের অপরাপর যুদ্ধ থেকে অনেকটা ভিন্ন প্রকৃতির। আন্তর্জাতিক যুদ্ধগুলোর সাথে এ যুদ্ধের যেটুকু মিল খুঁজে পাওয়া যায় তার চেয়ে অনেক বেশী মিল খুঁজে পাওয়া যায় ১৮৬১-১৮৬৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া গৃহযুদ্ধের (Civil War) সাথে। আন্তর্জাতিক মানের যে কোন বিশ্বকোষ থেকে দুই যুদ্ধের প্রেক্ষাপট, ঘটনাপ্রবাহ ও কার্যধারা তুলনামূলকভাবে অধ্যয়ন করলে এ বিষয়টি অত্যন্ত পরিস্কারভাবে ফুটে উঠে। ডিসেম্বরের সপ্তাহ খানেকের কথা বাদ দিলে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত সার্বভৌম শক্তির সাথে আভ্যন্তরীন উদীয়মান নয়া সার্বভৌম শক্তির সংঘাতের দিকটিই প্রবল। নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে প্রায়শঃ এরকম সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠে।  সে কারনেই অন্যান্য দেশের যুদ্ধাপরাধ ও তার বিচার প্রক্রিয়ার সাথে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ ও তার বিচার প্রক্রিয়ার আইনগত পার্থক্য বিরাট। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর নুরেমবার্গ ট্রাইবুনাল ও টোকিও ট্রাইবুনালের সাথে এর আইনগত মিল খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। কারণ, ঐ সকল যুদ্ধ মূলত আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত সম মানের সার্বভৌম (sovereign equals) শক্তি সমূহের সংঘাতের ফল।  এজন্য বিষয়টি একটু সবিস্তারে আলোচিত হওয়া উচিত।

প্রথমেই মনে রাখতে হবে, ধর্ষণ, নিরীহ মানুষ হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লু্ণ্ঠন – এগুলো সার্বজনীন অপরাধ। অর্থাৎ, কোন দেশের আইন ব্যবস্থায় এগুলো আগে থেকেই নিষিদ্ধ থাকুক আর না থাকুক – সর্বাবস্থায় এগুলো অপরাধ। আর এসব অপরাধ যুদ্ধকালে সংঘটিত হলে তা আরো নিকৃষ্ট মাত্রার অপরাধ হিসেবেই বিবেচিত হয়। কারণ, যুদ্ধকালে মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে যারা এসব অপকর্ম করে তারা নিঃসন্দেহে মানবতার চরম শত্রু, যুদ্ধের যেকোন পক্ষ দ্বারাই তা সম্পাদিত হোক না কেন। মানবতার বৃহত্তর নিরাপত্তার স্বার্থেই এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

কিন্তু ধর্ষণ, নিরীহ মানুষ হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন ইত্যাদি কর্ম সম্পাদিত না করে নিছক যুদ্ধের সক্রিয় বিরোধিতাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করার আইনগত অবকাশ আছে কিনা – সর্বাগ্রে এ বিষয়টির সমাধান হওয়া উচিত। [1] কারণ, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে রাজনৈতিক হীনস্বার্থে ‘যুদ্ধ বিরোধিতা’ ও ‘যুদ্ধাপরাধ’ – দু’টিকে একসাথে গুলিয়ে ফেলার কারণে এমন এক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে যার ফলে একদিকে মানবতার শত্রু আসল যুদ্ধাপরাধীরা রয়ে গেছে ধরা-ছোঁইয়ার বাইরে, অপর দিকে গোটা জনসাধারণ (বিশেষ করে তরুন প্রজন্ম) আটকা পড়েছে বিভ্রান্তির গোলক ধাঁধায়। অতএব সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই এ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারনা থাকা উচিত।

 

আইন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নঃ

কোন নাগরিকের উপর একই সময় দু’টি পৃথক সার্বভৌম শক্তির নির্দেশ বাধ্যকরী হতে পারে কি? আইনগতভাবে এর উত্তর সবসময়ই নেতিবাচক হতে বাধ্য। একটি উদাহরন দিলে বিষয়টি পরিস্কার বুঝা যাবে।

ধরি, ‘ক’ এবং ‘খ’ দু’টি পৃথক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। আপনি ‘ক’ রাষ্ট্রের নাগরিক।  ‘ক’ এবং ‘খ’ দু’টি পরস্পর বিরোধী নির্দেশ জারী করে আইনটি মেনে চলার জন্য আপনাকে আদেশ দিচ্ছে। এক্ষেত্রে ‘ক’ এবং ‘খ’ উভয়ের পরস্পর বিরোধী নির্দেশ মেনে নেয়া আপনার পক্ষে কোনক্রমেই সম্ভব নয়। এর কারণ মূলত দু’টি। প্রথমত, কোন ব্যক্তির পক্ষে দু’টি পরস্পর বিরোধী নির্দেশ একই সময়ে কার্যকর করা অসম্ভব। আর দ্বিতীয়ত, আপনি যে সার্বভৌম শক্তির প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রনাধীন (directly controlled) এলাকায় বসবাস করছেন আইনগতভাবে আপনি কেবল তারই নির্দেশ মেনে নিতে বাধ্য। তবে হ্যাঁ, আপনি যে এলাকায় বসবাস করছেন ‘খ’ যদি তার প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রন (direct control) নিয়ে সফলতার সাথে প্রশাসন পরিচালনা করতে সক্ষম হয় সেই দিন থেকে আপনি আগের সার্বভৌম শক্তি ‘ক’ কে বাদ দিয়ে ‘খ’ কে আপনার এলাকার কার্যত সার্বভৌম শক্তি (de facto sovereign) হিসেবে মেনে নিতে পারেন। অন্যান্য দেশ কর্তৃক ‘খ’ এর এই দখলকে স্বীকৃতি দেয়া হলে তা হয়ে যাবে আইনগত সার্বভৌম শক্তি (de jure sovereign)। তখন থেকে আপনি তার নির্দেশ মেনে নিতে আইনগতভাবে বাধ্য। তবে কোন অবস্থাতেই এই নয়া সার্বভৌম শক্তি ‘খ’এর কোন অধিকার নেই যে, এই এলাকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রন গ্রহন করার পূর্বে আপনি এই নয়া শক্তির যে ‘বিরোধিতা’ করেছিলেন সেজন্য সে আপনাকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা (waging war against the state) কিংবা রাষ্ট্রদ্রোহ (sedition and high treason) ইত্যাদি দায়ে আপনাকে অভিযুক্ত করবে। কারণ, আপনি এমন একটি সময়ে ‘খ’এর বিরোধিতা করেছিলেন যখন সে এই এলাকার কার্যত সার্বভৌম শক্তি (de facto sovereign) কিংবা আইনগত সার্বভৌম শক্তি (de jure sovereign)-কোনটিই ছিল না। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, রাষ্ট্র বিরোধিতা কিংবা রাষ্ট্রদ্রোহ ইত্যাদি অভিযোগে আপনাকে অভিযুক্ত করতে চাইলে ঐ নয়া সার্বভোম শক্তিকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে, সে কার্যত বা আইনগত সার্বভৌমত্ব অর্জন করার পরে আপনি তার বিরুদ্ধে সেসমস্ত অপরাধের কোন একটি সম্পাদন করেছেন। অর্থাৎ, রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ কেবল একটি পরিপূর্ণ রাষ্ট্রের (full-fledged state) বিরুদ্ধেই হওয়া সম্ভব। পরিপূর্ণ রাষ্ট্রসত্তা (full-fledged statehood) অর্জন করার পূর্বের কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রদ্রোহের আওতায় নিয়ে আসার বিষয়টি আইন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান – উভয় দিক থেকেই ভ্রান্ত।

১৯৭১ সালের যুদ্ধের প্রকৃতিঃ

আইনবিজ্ঞানের এই মূলনীতিটি সামনে রেখে ১৯৭১ সালের যুদ্ধটিকে দেখা প্রয়োজন। ১৯৪৭ সালে বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করার মধ্য দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান একটি একক সার্বভৌম রাষ্ট্র ‘পাকিস্তান’ নামে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়ে সমগ্র পাকিস্তানে একক সার্বভৌমত্বের বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সাধ্য কারো নেই।  ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চে চট্টগ্রাম থেকে এ অঞ্চলকে স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা দেয়ার মধ্য দিয়ে এ এলাকায় দ্বৈত সার্বভৌমত্বের পরস্পর বিরোধী দাবী শোনা গেল। একদিকে পূর্ব থেকে প্রতিষ্ঠিত সার্বভৌম শক্তি পাকিস্তান দাবী করছে যে, এই অঞ্চলে তার সার্বভৌমত্ব কার্যকর; অতএব জনগনের উচিত নয়া সার্বভৌমত্বের দাবীদারদের কবল থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্য রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীকে সহযোগীতা করা। শুধু তাই নয়, যদি কেউ নয়া  শক্তিকে সহযোগীতা করে, তাহলে তাকে পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২১ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহযোগীতার দায়ে মৃত্যুদণ্ড অথবা জরিমানাসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। অন্যদিকে নয়া শক্তি এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রের সীমান্ত এলাকা মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় নিজেরাই সরকার গঠন করে জনগনকে এই মর্মে আহ্বান জানায়, যেহেতু ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় লাভ করা সত্ত্বেও আমাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়নি, সেহেতু আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নিজেদেরকে এই এলাকার সার্বভৌম শক্তি হিসেবে ঘোষণা করছি। অতএব জনগনের উচিত আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত সার্বভৌম শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে আমাদেরকে এই এলাকার সার্বভৌম শক্তি হিসেবে মেনে নেয়া। 

এই হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের জনগনকে উদ্দেশ্য করে দু’টি পৃথক সার্বভৌম শক্তির দাবীদারদের পরস্পর বিরোধী নির্দেশ। জনগন এখন কী করবে? পূর্বেই দেখে এসেছি নির্দেশ দু’টি যেহেতু পরস্পর বিরোধী, সেহেতু একই সময়ে উভয়টি মেনে চলা অসম্ভব। তাহলে নির্দেশ দু’টির যে কোন একটিকে বেছে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। [2]কোনটিকে বেছে নিবে তারা? একদল বেছে নিল আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত সার্বভৌম শক্তিকে। এর কারণ মূলত দু’টি। প্রথমত, তারা যদি নয়া শক্তিকে ‘সহযোগীতা’ দেয় তাহলে পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২১ ধারা অনুযায়ী তাদের জন্য শাস্তি অবধারিত। দ্বিতীয়ত, তারা তখনো নয়া শক্তিকে কার্যত কিংবা আইনগত (de facto or de jure) – কোন দিক থেকেই সার্বভৌম মনে করতে পারছে না। কার্যত সার্বভোম মনে না করার কারণ হল, এই নয়া শক্তি এখনো এ এলাকার বাস্তব নিয়ন্ত্রন (practical control) নিতে পারে নি। প্রশাসনিক সমস্ত কার্যক্রম এখনো পর্যন্ত পরিচালিত হচ্ছে আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত সার্বভৌম শক্তির নির্দেশে। আর আইনগত সার্বভৌম (de jure sovereign) নয় এ কারণে যে, তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত সার্বভৌম শক্তির কাছ থেকে ক্ষমতা লাভ করে নি। আর এমন মনে করারও কোন সুযোগ নেই যে, তারা সার্বভোমত্বকে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। কারণ, সার্বভৌমত্ব অবিভাজ্য। এক বনে দুই বাঘের রাজত্ব কদাচ চললেও চলতে পারে; কিন্তু একই রাষ্ট্রে পরস্পর বিরোধী দুই সার্বভৌমত্বের উপস্থিতি অকল্পনীয়। তাছাড়া, দেশের সীমান্ত এলাকায় শপথ নিয়ে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের একটি প্রাদেশিক রাজধানীতে নিজেদের প্রবাসী সরকারের দফতর প্রতিষ্ঠা করা সত্ত্বেও নয়া সার্বভোমত্বের পতাকাবাহীরা নিজেদের আশ্রয়দাতা রাষ্ট্র কর্তৃকও স্বীকৃত (recognized)হয়নি।  [এখানে উল্লেখ্য যে, মার্চ মাসের ২৬ তারিখে যুদ্ধ ঘোষণা করা হলেও ভারত নয়া সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে ডিসেম্বরের ৬ তারিখে অর্থাৎ, যুদ্ধের একেবারে শেষের দিকে।]  অন্যদিকে তাদের দৃষ্টিতে আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত সার্বভৌম শক্তিটি আইনগত ও কার্যত (de facto and de jure)  – উভয় দিক থেকেই সার্বভৌম। কারণ, এ এলাকা পুরোপুরি তার দখলে এবং তার সার্বভৌমত্ব গোটা বিশ্বের অপরাপর প্রায় সকল সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক স্বীকৃত (recognized)।

জনতার আরেকটি গ্রুপ বেছে নিল নয়া সার্বভৌম শক্তির দাবীদারকে। তাদের যুক্তির সারবত্তা হল, যেহেতু আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত সার্বভৌম শক্তি আমাদেরকে অন্যায়ভাবে আমাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছে, সেহেতু জাতিসংঘ সনদ (The Charter of the United Nations) সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইনে বিঘোষিত ‘জনতার আত্মনিয়ন্ত্রনাধিকার’ (People’s right to self determination) –‘র ভিত্তিতে বর্তমান রাষ্ট্রকে ভেংগে আমরা আমাদের নতুন রাষ্ট্র গড়ে নেওয়ার পূর্ণ অধিকারী।  বিপরীত দিকে আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত সার্বভৌম শক্তিও আন্তর্জাতিক আইনের আরো সুস্পষ্ট নীতি অর্থাৎ, ‘রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার অলংঘনীয়তা’ নীতি  (Inviolability of national sovereignty and territorial integrity) প্রয়োগ করে নয়া সার্বভৌমত্বের দাবীদারকে দমন করার সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহন করল।

উপরোক্ত অবস্থার প্রেক্ষিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের লোকদেরকে আমরা নিম্নোক্ত কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করতে পারিঃ

  • অখণ্ড রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী
  • অখণ্ড রাষ্ট্রের সমর্থক জনগোষ্ঠী
  • নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকামী সশস্ত্র বাহিনী
  • নতুন রাষ্ট্রের সমর্থক জনগোষ্ঠী
  • নির্লিপ্ত জনগোষ্ঠী
  • ভারতীয় ইষ্টার্ন কমাণ্ডভুক্ত সেনাবাহিনী

যুদ্ধকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবস্থান[3]

এই বহুমুখী সংঘাতে অগনিত লোকের প্রানহানি ঘটে; কেউ মুখোমুখি লড়াইয়ে, আবার কেউ ব্যক্তি/গোষ্ঠিকেন্দ্রিক জিঘাংসাবৃত্তির শিকার হয়ে। ধর্ষণ, নিরীহ মানুষ হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন ইত্যাদি বদকর্মও সম্পাদিত হয় ব্যপকভাবে। একপক্ষ অপর পক্ষকে শত্রুবাহিনীর ‘চর’ বা ‘দালাল’ আখ্যা দিয়ে হরদম খতম করতে থাকে। নীচের ছবিটি ‘চর’ বা ‘দালাল’ নিধনের একটি দৃশ্য।

চিত্র ১: যুদ্ধ চলাকালে অখণ্ড রাষ্ট্রের দুশমন হিসেবে হত্যাকাণ্ডের নির্মম শিকার [4]

এই ব্যাপক সংঘাতের একটি পর্যায়ে ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইষ্টার্ন কমাণ্ডের জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরার নিকট অখণ্ড রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পক্ষে লেঃ জেঃ আমীর আব্দুল্লাহ খান নিয়াজির আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে এই এলাকায় এতদিনকার প্রতিষ্ঠিত সার্বভৌম শক্তির অবসান ঘটল। তার স্থান দখল করল  নতুন সার্বভৌম শক্তি ‘বাংলাদেশ’।

অরোরার নিকট নিয়াজির আত্মসমর্পন  [5]

 

নতুন শক্তি ক্ষমতাসীন হওয়ার পরপরই নতুন উদ্যমে ‘দালাল’ নিধনে মেতে উঠে। আইন শৃংখলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে। তথাকথিত ‘দালাল’ নিধন প্রকল্পে ভবলীলা সাংগ হয়অসংখ্য নিরীহ মানুষের। নীচের ছবিটি ‘দালাল’ নিধন মহোৎসবের একটি চিত্রঃ

Christian Simonpietri / Sygma / Corbis

চিত্র ২: ১৬ই ডিসেম্বরের অব্যবহিত পরেই (অর্থ্যাৎ, যুদ্ধ সমাপ্তির পর) নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকামী সশস্ত্র যোদ্ধা কর্তৃক ঢাকার প্রকাশ্য রাজপথে জনতার সামনে প্রাক্তন রাষ্ট্রের দালাল (Collaborator) বধ উৎসব। [6]

দালাল আদেশঃ

আইন অশৃংখলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতির মধ্যেই ২৪ জানুয়ারি ১৯৭২ বাংলাদেশ দালাল (বিশেষ ট্রাইবুনাল) আদেশ (The Bangladesh Colloborators (Special Tribunals) Order, 1972) জারী করা হয়।

Bangladesh Collaborators (Special Tribunals) Order, 1972
Presidents Order
No.8 of 1972

Whereas certain persons, individually or as members of organizations, directly or
indirectly, have been collaborators of the Pakistan Armed Forces, which had illegally
occupied Bangladesh by brute force and have aided or abetted the Pakistan Armed Forces
of occupation in committing genocide and crimes against humanity and in committing
atrocities against men, women and children and against the person, property and honor of
the civilian population of Bangladesh and have otherwise aided or co-operated with or
acted in the interest of Pakistan Armed Forces of occupation or contributed by any act,
word or sign towards maintaining, sustaining, strengthening, supporting or furthering the
illegal occupation of Bangladesh by the Pakistan Armed Forces or have waged war or
aided or abetted in waging war against People’s Republic of Bangladesh.
And whereas such collaboration contributed towards the perpetration of a reign of terror
and the commission of crimes against humanity on a scale which has horrified the moral
consciences of the people of Bangladesh and of right thinking people throughout the
world; And whereas it is imperative that such persons should be dealt with effectively and be adequately punished in accordance with the due process of law; And whereas it is expedient to provide for the setting up of Special Tribunals for expeditious and fair trial of the offences committed by such persons; Now therefore, in pursuance of the proclamation of Independence of Bangladesh Order, 1972 in exercise of all powers enabling him in that behalf, the President is pleased to make the following Order :

1. 1) This Order may be called the Bangladesh Collaborators (Special Tribunals) Order,
1972
2) It extends to the whole of Bangladesh.
3) It shall come into force at once and shall be deemed to have taken effect on the 26th
day of March,
1971.
In this Order, –
a) ‘Code’ means Code Of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898)
b) ‘Collaborator’ means a person who has-
(i) Participated with or aided or abetted the occupation army in maintaining, sustaining,
strengthening, supporting or furthering the illegal occupation of Bangladesh by such
army;
(ii) rendered material assistance in anyway whatsoever to the occupation army by any act,
whether by words, signs or conduct;
(iii) Waged war or abetted in waging war against the People’s Republic Of Bangladesh;
(iv) Actively resisted or sabotaged the efforts of the people and the liberation forces of
Bangladesh in their liberation struggle against the occupation army;
(v) by a public statement or by voluntary participation in propaganda within or outside
Bangladesh on or by association in any delegation or committee or by participation in
purported by-elections attempted to aid or aided the occupation army in furthering its
design of perpetrating its forcible occupation in Bangladesh.
Explanation- a person who has performed in good faith functions which he was required
by any purported law in force at the material time to do shall not be deemed to be a
collaborator;
Provided that a person who has performed functions as direct object or result of which
was the killing of any member of the civil population or the liberation forces of
Bangladesh or the destruction of their property or the rape of or the criminal assault on
their womenfolk, even if done under purported law passed by the occupation army, shall
be deemed to be a collaborator.
c) “Government” means the Government of the People’s Republic of Bangladesh:
d) “Liberation Forces” includes all forces of the People’s Republic of Bangladesh
engaged in the liberation of Bangladesh;
e) “Occupation Army” means the Pakistan Armed Forces engaged in the occupation of
Bangladesh.
f) “Special Tribunal” means a Tribunal under this order.

3(1) Any Police Officer or any person empowered by the Government in that behalf may,
without a warrant, arrest any person who may reasonably be suspected of having been a
collaborator.
(2) Any Police Officer on any person making an arrest under clause (1) shall forthwith
report such arrest
to the Government together with a pr�cis of the information or materials on the basis of
which the arrest has been made, and, pending receipt of the order of the Government,
may, by order in writing, commit any person so arrested to such custody as the
Government may by general or special order specify.
(3) On receipt of a report under clause (2), the Government may by order in writing,
direct such person to be detained for an initial period of six months for the purpose of
inquiry into the case.
(4) The Government may extend the period of detention if, in the opinion of the
Government, further time is required for completion of the inquiry.
(5) Any person arrested or detained before the commencement of this Order who is
alleged to be a collaborator, shall be deemed to be arrested and detained under this Order
and an order in writing authorizing such detention shall be made by the Government:
Provided that the initial period of detention of six months in the case of such person shall
be computed from the date of this arrest.
4. Notwithstanding anything contained in the Code or in any other law for the time being
in force, any collaborator who has committed any offence specified in the Schedule shall
be tried and punished by a Special Tribunal set up under this Order and no other Court shall have any jurisdiction to take cognizance of any such offence.
5. (1) The Government may set up as many Special Tribunals as it may deem necessary
to try and punish offences under this Order for each district or for such area as may be
determined by it.
(2) A Special Tribunal shall consist of one member.
(3) No person shall be qualified to be appointed a member of a Special Tribunal unless he
is or has been a Sessions Judge or an Additional Sessions Judge or an Assistant Sessions
Judge.
6. (1) A Special Tribunal consisting of a Sessions Judge or an Additional Session Judge
shall try and punish offences enumerated in parts I and II of the Schedule.
(2) A Special Tribunal consisting of a Sessions Judge or an Additional Session Judge
shall try and punish offences enumerated in parts III and IV of the Schedule.
7. A Special Tribunal shall not take cognizance of any offence punishable under this
Order except upon a report in writing by an officer-in-charge of a police station.
8. (1) the provisions of the Code insofar as they are not inconsistent with the provisions
of this Order, shall apply to all matters connected with, arising from or consequent upon a
trial by a Special Tribunal.
9. (1) A Special Tribunal shall not be bound to adjourn a trial for any purpose unless such
an adjournment is, in its opinion, necessary in the interests of justice.
(2) No trial shall be adjourned by reason of the absence of any accused person if such
accused person
is represented by counsel, or if the absence of the accused person or his counsel has been
brought about by the accused person himself, and the Special Tribunal shall proceed with
the trial after taking necessary steps to appoint as advocate to defend an accused person
who is not represented by counsel.
10. A Special Tribunal may, with a view to obtaining the evidence of any person
supposed to have been directly or indirectly concerned in, or privy to the offence, tender
a pardon to such person on condition of his making a full and true disclosure of the whole
circumstances within his knowledge relative to the offence and to every other person
concerned, whether as principal or abettor, in the commission thereof and any pardon so
tendered shall, for the purpose of section 339 and 339A of the Code, be deemed to have
been tendered under section 338 of the Code.
11. Notwithstanding anything contained in any other law for the time being in force, (
a) any collaborator who is convicted for any of the offences specified in part I of the
Schedule shall be punished with the death or transportation for life and shall also be
liable to a fine;
(b) any collaborator who is convicted for any of the offences specified in part II of the
Schedule shall be punished with rigorous imprisonment for a term not exceeding ten
years and shall also be liable to a fine;
(c) any collaborator who is convicted for any of the offences specified in part III of the
Schedule shall be punished with rigorous imprisonment for a term not exceeding five
years and shall also be liable to a fine;
(d) any collaborator who is convicted for any of the offences specified in part IV of the
Schedule shall be punished with rigorous imprisonment for a term not exceeding two
years and shall also be liable to a fine;
12. Without prejudice to any sentence passed by Special Tribunal, the property
immovable, movable, or any portion thereof, of a collaborator may, on his conviction, be
forfeited to the Government, upon an order in writing made in this behalf by the
Government.
13. If any accused in convicted of and sentenced for more then one offence, the sentences
of imprisonment shall run concurrently or consecutively, as determined by the Special
Tribunal.
14. Notwithstanding anything contained in the Code no person who is in custody,
accused or convicted of any offence punishable under this order shall be released on bail.
15. The provisions of Chapter XXVII of the Code shall apply to a sentence of death
passed by a Special Tribunal.
16. (1) A person convicted of any offence by a Special Tribunal may appeal to the High
Court.
(2) The Government may direct a Public Prosecutor to present an appeal to the High
Court from an order of acquittal passed by a Special Tribunal, upon intimation to the
Special Tribunal by the Public Prosecutor that such an appeal is being filed, the person in
respect of whom the order of acquittal was passed shall continue to remain in custody.
(3) The period of limitation for an appeal under clause (1) shall be 30 days from the date
of sentence and for an appeal under clause (2) shall be 30 days from the date of the order
of acquittal.
(4) The appeal may lie on matters of fact as well as law.
17. (1) If the Government has reasons to believe that a person, who, in the opinion of the
Government, is required for the purpose of any investigation, enquiry or other
proceedings connected with an offence punishable under this Order, is absconding or is
otherwise concealing himself or remaining abroad to avoid appearance, the Government,
may, by a written proclamation published in the official Gazette or in such other manner
as may be considered suitable to make it widely known:
(a) direct the person named in the proclaimed to appear at a specified place at a specific
time;
(b) direct attachment of any property, moveable and immoveable or both, belonging to
the proclaimed person.
Explanation-“Property belonging to the proclaimed person shall include property,
movable and immovable, standing in the name of his wife, children, parents, minor
brothers, sisters or dependents or any demander.”
(2) If the property ordered to be attached is a debt or other movable property the
attachment shall be made,-
(a) by seizure; or
(b) by the appointment of an administrator; or
(c) by an order in writing prohibiting the delivery or such property to the proclaimed
person or to anyone on his behalf; or
(d) by all or any two of the methods mentioned in sub-clauses(a), (b) and (c) as the
Government may direct.
(3) If the property ordered to be attached is immovable, the attachment shall be made in
the case of land paying revenue to Government, by the Deputy Commissioner of the
district in which the land is situate, and in all other case,-
(a) by taking possession of the property;
or
(b) by the appointment of an administrator; or
(c) by an order in writing prohibiting the payment of rent or delivery of the property to
the proclaimed person or to anyone on his behalf; or
(d) by all or any two of this methods mentioned in sub-clauses (a), (b) and (c) as the
government may direct.
(4) If the property ordered to be attached consists of livestock or is of a perishable nature,
the Government may, if it thinks if expedient, order immediate sale thereof, and in such
case the sale shall abide by the order of the Government.
(5) The powers, duties and liabilities of an administrator appointed under this Article
shall be the same as those of a receiver appointed under Chapter XXXVI of the Code of
Civil Procedure, 1908 (Act V of 1908).
(6) If any claim is preferred to, or objection made to the attachment of, any property
attached under this Article, within seven days from the date of such attachment, by any
person other than the proclaimed person, on the ground that the claimant or objector has
an interest in such property, and that such interest is not liable to attachment under this
Article, the claim or objection shall be inquired into, and may be allowed or disallowed in
whole or in part:
Provided that any claim preferred or objection made within the period allowed by this
clause may, in the event of the death of the claimant or objector, be continued by his legal
representative.
(7) Acclaim or an objection under clause (6) may be preferred or made before such
person or authority as is appointed by the Government.
(8) Any person whose claim or objecting has been disallowed in whole or in part by an
order under clause (6) may, within a period of one month from the date of such order,
appeal against such order to an appellate authority, constituted by the Government, for
such purpose, but subject to the order of such appellate authority, the order shall be
conclusive.
(9) If the proclaimed person appears within the time specified in the proclamation, the
Government may make an order releasing the property from the attachment.
(10) If the proclaimed person does not appear within the time specified in the
proclamation, the Government may pass an order forfeiting to the Government the
property under attachment.
(11) When any property has been forfeited to the Government under clause (10), it may
be disposed of in such manner as the Government directs.
18. Notwithstanding the provisions of the Code or of any other law for the time being in
force, no action or proceeding taken or purporting to be taken under this Order shall be
called in question by any Court, and there shall be no appeal from any order or sentence
of a Special Tribunal save as provided in section 16.
SCHEDULE
PART I
Offences under sections 121, 121-A, 302, 304, 307, 376, 396 of the Penal Code and
attempts to commit or the abetment of the commission of any of such offences.
PART II
Offences under sections 308, 325, 326, 328, 329, 330, 331, 333, 354, 363, 364, 365, 367,
368, 369, 380, 382, 386, 388, 389, 392, 393, 394, 395, 397, 435, 436, 437, 438, 449 and
450 of the Penal Code and attempts to commit or the abetment of the commission of any
such offences.
PART III
Offences under sections 324, 332, 338, 343, 346, 348, 427, 428, 429, 430, 431 and 440 of
the penal code and attempts to commit or the abetment of the commission of any of the
offences.
PART IV

(a) Offences under sections 336, 337, 341, 342, 352, 357, 374, 426, 447 and 448 of the
penal code and attempts to commit or the abetment of the commission of any of the
offences.
(b) Any act which is mentioned is clause (b) of Article 2 of this order but which is not
covered by any of the parts in this schedule.

মনে রাখতে হবে এই আইনের উদ্দেশ্য দলমত নির্বিশেষে যুদ্ধকালীন অপরাধীদের বিচার করা নয়; বরং এই এলাকায় আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত সার্বভৌম শক্তির শুধু তথাকথিত ‘দালাল’দের হেনস্তা করা। ‘অপরাধের’ বিচার না করে ‘যুদ্ধ বিরোধিতার’ বিচার শুরু হল। অথচ ‘অপরাধ’ ও ‘যুদ্ধ-বিরোধিতা’ কখনো এক নয়। ন্যায় বিচারের দাবী ছিল দল-মত নির্বিশেষে ‘অপরাধীর’ বিচার করা। তা না করে তথাকথিত ‘দালালের’ বিচার প্রচেষ্টা চলল। উক্ত দালাল আদেশে দালালের এমন ব্যাপক সংজ্ঞা দেয়া হয় যাতে ২৬ শে মার্চ তারিখে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে চলে যায়নি এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে দালাল বানানোর সুযোগ রয়ে গেল। সে সময়কার একটি সার্বিক চিত্র ফুটে উঠেছে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের Bangladesh: Era of Sheikh Mujibur Rahman বইতেঃ

“…the wide definition of ‘collaborator’ which could include almost every one in the country who did not cross the border…. But as soon as the whole spectrum of law was put into operation it started receiving adverse reaction not so much for the intent of the law itself but for the way in which it was implemented. The police force by itself being weak and disorganized and the Awami League’s complete political control over the country provided a unique scope to go for motivated action under the cover of the law. While the law provided a due process for justice it also provided by its boundless powers to large section of the Awami League workers for revenge, extortion, torture, harassment, humiliation and blackmail. As a result, a large number of people were arrested or victimized on personal consideration. On the other hand, because of this role played by the Awami League in interfering with the process of law, some actual collaborators who could procure the party blessing either by bribery or personal relationship or patronage could get away from the wrath of the law. [7]

আবুল মনসুর আহমদের মূল্যায়নঃ

 

ন্যায়বিচার শুরুতেই বাধাগ্রস্ত হল। ব্যথিত হল অনেক সচেতন বিবেক। তাদেরই অন্যতম ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রবীন রাজনীতিবিদ, পাকিস্তানের অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী ও প্রথিতযশা কথা সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমদ। “আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর” গ্রন্থে তিনি তৎকালীন সরকারের এই আত্মঘাতি পদক্ষেপকে ‘চাঁদে কলঙ্ক’ আখ্যায়িত করে লিখেছেনঃ

“কিন্তু অকস্মাৎ ২৪শে জানুয়ারি আমাদের রাজনৈতিক চাঁদে কলঙ্ক দেখা দিল। কলঙ্ক ত নয়, একেবারে রাহু, সে রাহুতে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হইল। রাহু দুইটি। প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডার নম্বর ৮ ও ৯। একটার নাম দালাল আইন। আরেকটার নাম সরকারী চাকুরী আইন। উভয়টাই সর্বগ্রাসী ও মারাত্মক। একটা গোটা জাতিকে, অপরটা গোটা প্রশাসনকে দ্বিখণ্ডিত করিয়াছে। সে সবের প্রতিকার দুঃসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ। অথচ এ দুইটা পদক্ষেপই ছিল সম্পূর্ণ অনাবশ্যক।

সব দমননীতিমূলক আইনের মতই দালাল আইনেরও ফাঁক ছিল নির্বিচারে অপপ্রয়োগের। হইয়াও ছিল দেদার অপপ্রয়োগ। ফলে নির্যাতন চলিয়াছে বেএন্তেহা। যে আওয়ামী লীগ নীতিতঃই নিবর্তনমূলক আইনের বিরোধী, একজন লোককেও বিনা-বিচারে একদিনও আটক না রাখিয়া দেশ শাসন যে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য, সেই আওয়ামী লীগেরই স্বাধীন আমলে অল্পদিনের মধেই ত্রিশ চল্লিশ হাজার নাগরিক গ্রেফতার হইয়াছেন এবং বিনা-বিচারে প্রায় দুই বছর কাল আটক আছেন। বেশী না হইলেও প্রায় সম-সংখ্যক লোক বাড়ী-ঘর ছাড়িয়া ভিন্ন-ভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করিয়া বেড়াইতেছেন। গ্রেফতারিত ব্যক্তিরা যামিনাদি ব্যাপারে আদালতি সুবিধা পাইতেছেন না। অতি অল্প-সংখ্যক লোক ছাড়া কারো বিরুদ্ধে চার্জশীট হইতেছে না। এমনকি, তদন্তও শেষ হয় নাই। এ সবই সর্বাত্মক দমন আইনের উলংগ রূপ ও চরম অপপ্রয়োগ। [8]

 

স্বাধীনতা বিরোধীতা বনাম যুদ্ধাপরাধঃ

বিচার নিয়ে অতিমাত্রায় ‘রাজনীতি’ করার  ফলে আসল অপরাধীরা অনেক ক্ষেত্রেই ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেল। স্বাধীনতার বিরোধিতা ও যুদ্দাপরাধ প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হতে লাগল। এ প্রসংগে আবুল মনসুর আহমদ কিছু ঐতিহাসিক উদাহরণ দিয়ে বলেনঃ

“তবু এটাই এ আইনের  চরম মারাত্মক রূপ নয়। নাগরিকদের ব্যক্তিগত ভোগান্তি ছাড়াও এ আইনের একটা জাতীয় মারাত্মক দিক আছে। এই আইন গোটা জাতিকে ‘দেশপ্রেমিক’ ও ‘দেশদ্রোহী’ এই দুই ভাগে বিভক্ত করিয়াছে। অথচ দেশবাসীর চরিত্র তা নয়। ১০ই জানুয়ারি শেখ মুজিব যখন দেশে ফিরেন, তখন তিনি কোন দলের নেতা ছিলেন না। নেতা ছিলেন তিনি গোটা জাতির। তাঁর নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হইয়া মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের যে স্বাধীনতা আনিয়াছিলেন সেটা কোন দল বা শ্রেণীর স্বাধীনতা ছিল না। সে স্বাধীনতা ছিল দেশবাসী সকলের ও প্রত্যেকের। এমনকি যাঁরা স্বাধীনতার বিরোধিতা করিয়াছিলেন তাঁদেরও। সব দেশের স্বাধীনতা লাভের ফল তাই। ভারতের স্বাধীনতা আনিয়াছিলেন কংগ্রেস; অনেকেই তার বিরোধিতা করিয়াছিলেন। পাকিস্তানের স্বাধীনতা আনিয়াছিলেন মুসলিম লীগ। অনেকেই তার বিরোধিতা করিয়াছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার পর সবাই সে স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করিতেছেন। স্বাধীনতার বিরোধিতা করার অপরাধে কাউকে শাস্তি ভোগ করিতে হয় নাই। কোন দেশেই তা হয় না। কারণ, স্বাধীনতার আগে ওটা থাকে রাজনৈতিক মতভেদ। শুধু স্বাধীনতা লাভের পরেই হয় ওটা দেশপ্রেম ও দেশদ্রোহিতার প্রশ্ন। সব স্বাধীনতা সংগ্রামের বেলাই এটা সত্য। বাংলাদেশের ব্যাপারে এটা আরো বেশী সত্য। বাংলাদেশের সংগ্রাম শুরু হয় নিয়মতান্ত্রিক পন্থায়, নির্বাচনের মাধ্যমে। সে নির্বাচনে স্বাধীনতা নির্বাচনী ইশু ছিল না। আওয়ামী লীগও অন্যান্য পার্টির মতই পাকিস্তান-ভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচীর ভিত্তিতে নির্বাচন লড়িয়াছিল।” [9]

দায়মুক্তি আদেশঃ

দালাল আদেশের নামে একতরফা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিল। যুদ্ধ চলাকালে ও যুদ্ধোত্তর পর্যায়ে নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকামী লোকদের হাতেও অসংখ্য নিরীহ মানুষ হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণের অভিযোগ উঠতে থাকে। জনতা তাদের বিরুদ্ধেও মামলা করার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু, তৎকালীন সরকার একটি আইন জারী করে তার নিজ বলয়ের  লোকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার রাস্তা বন্ধ করে দেয়। পুরো আইনটি নীচে উদ্ধৃত করা হল।

THE BANGLADESH NATIONAL LIBERATION STRUGGLE (INDEMNITY) ORDER, 1973

(PRESIDENT’S ORDER NO. 16 OF 1973).

  [28th February, 1973]

WHEREAS it is expedient to provide for indemnity to persons in the service of the Republic and to other persons in respect of act done in connection with the national liberation struggle, the maintenance or restoration of order;

NOW, THEREFORE, in pursuance of paragraph 3 of the Fourth Schedule to the Constitution of the People’s Republic of Bangladesh, and in exercise of all powers enabling him in that behalf, the President is pleased to make the following Order:-

1. (1) This Order may be called the Bangladesh National Liberation Struggle (Indemnity) Order, 1973.

(2) It shall come into force at once and shall be deemed to have taken effect on the 26th day of the March, 1972.

2. No suit, prosecution or other legal proceeding shall lie in any Court against any person for or on account of or in respect of any act done during the period from the 1st day of March, 1971 to the 16th day of December, 1971, in connection with the struggle for national liberation or for maintenance or restoration of order up to the 28th day of February, 1972.

[১৯৭১ সালের ১লা মার্চ থেকে শুরু করে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের সাথে সম্পৃক্ত যে সকল কাজ সম্পাদিত হয়েছে অথবা ১৯৭২ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত আইন শৃংখলা বজায় রাখার জন্য যে সকল কাজ সম্পাদিত হয়েছে তার কোন একটির জন্যও কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন প্রকার মামলা-মকদ্দমা কিংবা অন্য কোন আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। ]

3. A public prosecutor shall, upon the Government certifying that a case against any person in the service of the Republic or against any other person for or on account of or in respect of any act done by him during the period from the 1st day of March, 1971, and the 28th day of February, 1972, is an act done in connection with national liberation struggle or for maintenance or restoration of order, apply to the court and upon submission of such application the court shall not proceed further with the case, which shall be deemed to be withdrawn, and the accused person shall forthwith be discharged.

4. The Government may make rules for carrying out the purposes of this Order.

যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২৫শে মার্চের রাতের আক্রমনের পর থেকে। অথচ উক্ত আইনের মাধ্যমে ১লা মার্চ থেকে কৃত প্রত্যেকটি কাজের দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে। অধিকন্তু, যুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়েছিল ১৬ই ডিসেম্বরে। অথচ দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে পরবর্তী বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কৃত প্রত্যেকটি কাজের জন্য। যুদ্ধকালীন সময়টাকে না হয় বাদই দিলাম। তারপরও প্রশ্ন জাগে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের ২৫ দিন এবং যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরের আড়াই মাস এমন কী ঘটেছিল যার জন্য যথারীতি আইন করে দায়মুক্তি দেয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল? ‘দালাল’ বধের ফটো (চিত্র ২)থেকে এর উত্তর কিছুটা আঁচ করা যেতে পারে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রচেষ্টাঃ আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন, ১৯৭৩

 

দালাল আইনে এদেশীয় ‘দালাল’দের বিচার চলতে থাকা অবস্থায় ‘যুদ্ধাপরাধী’দের বিচারের দাবী বেশ জোরদার হয়ে উঠে। কিছুদিনের মধ্যে তৎকালীন সরকার ১৯৫ জন ‘যুদ্ধাপরাধী’র তালিকা প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, তালিকার সবাই ছিল পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তা। উক্ত তালিকায় এ এলাকার কোন ব্যক্তির নাম ছিল না। এদেশীয় লোকদের দালাল আইনে গ্রেফতার করে ‘দালাল’ হিসেবে বিচার করা হচ্ছিল; ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে নয়।

‘যুদ্ধাপরাধী’দেরকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য তৎকালীন সরকার ১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন’ (The International Crimes (Tribunals) Act, 1973) জারী করে। শুরু থেকেই এ আইনটি একটি কালা কানুন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কারণ, এ আইনের মাধ্যমে বিচার সংশ্লিষ্ট মৌলিক মানবাধিকারগুলোকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। সাংবিধানিক আইনের স্বীকৃত মূলনীতি অনুযায়ী মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি যে কোন আইন অসাংবিধানিক ও বাতিল বলে পরিগণিত হতে বাধ্য। [10] উক্ত কালা কানুনটির বিরুদ্ধে অসাংবিধানিকতার অভিযোগ ওঠা অবশ্যম্ভাবী – এরকম আশংকার প্রেক্ষিতে তৎকালীন সরকার সাংবিধানিক আইনের নিয়মানুযায়ী উক্ত আইনের খসড়া থেকে মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি  ধারাগুলোকে সংশোধন করার পরিবর্তে (উক্ত আইন পাশ করার মাত্র ৫ দিন আগে ১৫ ই জুলাই) খোদ সংবিধানকে সংশোধন করে বলে দিল যে, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকল্পে প্রণীত আইনের কোন বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের পরিপন্থি হওয়ার কারণে বাতিল বা বেআইনী বলিয়া গন্য হইবে না[11] অন্য কথায়, উক্ত আইনটি মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি হওয়া সত্বেও শুদ্ধ হিসেবে গন্য হবে।

সিমলা চুক্তিঃ

কিন্তু গোল বাধে অন্য জায়গায়। মূলত যাদের বিচার করার জন্য এই মহা আয়োজন সেই ১৯৫ ‘যুদ্ধাপরাধী’ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রনে নেই; যুদ্ধের অব্যবহিত পরেই ভারত তাদের বিশাল বহরকে নিজ দেশে নিয়ে আটকে রেখেছে। ইতোমধ্যে ১৯৭২ সালের ২৮শে জুন থেকে ২রা জুলাই ইন্দিরা গান্ধী ও জুলফিকার আলী ভূট্টো সিমলায় মিলিত হয়ে ‘নতুন সূচনা’ (New Beginning) ও ‘অতীত ভুলে যাও, সন্মুখপানে তাকাও’ (Forget the past and look to the future) – নীতিতে ঐকমত্য প্রকাশ করে। আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে কিছু বলা না হলেও সিমলা চুক্তিকে (Simla Agreement) যুদ্ধবন্দীদের প্রত্যাবর্তনের প্রথম পদক্ষেপ মনে করা হয়। কারণ, চুক্তিতে দুই পক্ষই সকল প্রকার মতপার্থক্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অথবা অন্য কোন শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের ব্যাপারে একমত পোষণ করে। আর সে সময় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সবচেয়ে দৃশ্যমান মতপার্থক্য ছিল যুদ্ধবন্দী ইস্যুটি। এরই প্রেক্ষিতে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন’ (The International Crimes (Tribunals) Act, 1973) জারী করে।

ভারতে অবস্থানরত পাকিস্তানের যুদ্ধবন্দী [12]

দিল্লী চুক্তিঃ

কিন্তু, ১৯৭৩ সালের ২৮শে আগস্ট দিল্লী চুক্তির (Delhi Agreement) মাধ্যমে ভারতে আটক পাকিস্তানের যুদ্ধবন্দীদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার (REPATRIATION) সুযোগ করে দেয়া হয়।

AGREEMENT BETWEEN THE GOVERNMENT OF INDIA AND THE GOVERNMENT OF THE ISLAMIC REPUBLIC OF PAKISTAN
REGARDING REPATRIATION OF PERSONS  

New Delhi, 28 August 1973

Desirous of solving the humanitarian problems resulting from the conflict of 1971 and thus enabling the vast majority of human beings referred to in the Joint Indo-Bangladesh Declaration to go to their respective countries, India and Pakistan have reached the following agreement :

(i) The immediate implementation of the solution of these humanitarian problems is without prejudice to the respective positions of the Parties concerned relating to the case of 195 prisoners of war referred to in clauses (vi) and (vii) of this paragraph;

(ii) Subject to clause (i) repatriation of all Pakistani prisoners of war and civilian internees will commence from the utmost despatch as soon as logistic arrangements are completed and from a date to be settled by mutual agreement;

(iii) Simultaneously, the repatriation of all Bangalees in Pakistan, and all Pakistanis in Bangladesh referred to in clause (v) below, to their respective countries will commence;

(iv) In the matter of reparticiation of all categories of persons the principle of simultaneity will be observed throughout as far as possible;

(v) Without prejudice to the respective positions of Bangladesh and Pakistan on the question of non-Bangalees, who are stated to have “opted for repatriation to Pakistan”, the Government of Pakistan guided by considerations of humanity, agrees, initially, to receive a substantial number of such non-Bangalees from Bangladesh.  It is further agreed that the Prime Ministers of Bangladesh and Pakistan or their designated representatives will thereafter meet to decide what additional number of persons, who may wish to migrate to Pakistan, may be permitted to do so.  Bangladesh has made it clear that it will participate in such a meeting only on the basis of sovereign equality;

(vi) Bangladesh agrees that no trials of the 195 prisoners of war shall take place during the entire period of repatriation and that pending the settlement envisaged in clause (vii) below these prisoners of war shall remain in India;

(vii) On completion of repartriation of Pakistan prisoners of war and civilian internees in India; Bangalees in Pakistan and Pakistanis in Bangladesh referred to in clause (v) above, or earlier, if they so agree, Bangladesh, India and Pakistan will discuss and settle the question of 195 prisoners of war.  bangladesh has made it clear that it can participate in such a meeting only on the basis of sovereign equality.

The Special representatives are confident that the completion of repatriation provided for in this Agreement would make a signal contribution to the promotion of reconciliation in the sub-continent and create an atmosphere favorable to a constructive outcome of the meeting of the three countries;

(viii) The time schedule for the completion of repatriation of the Pakistani prisoners of war and civilian internees from India, the Bangalees from Pakistan and the Pakistanis referred to in clause (v) above from Bangladesh, will be worked out by India in consultation with Bangladesh and Pakistan, as the case may be.  The Government of India will make the logistic arrangements for the Pakistani prisoners of war and civilian internees who are to be repatriated to Pakistan.  The Government of Pakistan will make logistic arrangements within its territory upto agreed points of exit for the repatriation of Bangladesh nationals to Bangladesh.  The Government of Bangladesh will make necessary arrangements for the transport of these persons from such agreed points of exit to Bangladesh.  The Government of Bangladesh will make logistic arrangements within its territory upto agreed points of exit for the movement of the Pakistanis referred to in clause (v) above who will go to Pakistan.  The Government of Pakistan will make necessary arrangements for the transport of these persons from such agreed points of exit to Pakistan.  In making logistic arrangements the Governments concerned may seek the assistance of international humanitarian organisations and others;

(ix) For the purpose of facilitating the repatriation provided for in this Agreement, the representatives of the Swiss Federal Government and any international humanitarian organisation entrusted with this task shall have unrestricted access at all times to Bangalees in Pakistan and to Pakistanis in Bangladesh referred to in clause (v) above.  The Government of Bangladesh and the Government of Pakistan will provide all assistance and facilities to such representatives in this regard including facilities for adequate publicity for the benefit of the persons entitled to repatriation under this Agreement;

(x) All persons to be repatriated in accordance with this Agreement will be treated with humanity and consideration.

The Government of India and the Government of Pakistan have concurred in this Agreement.  The Special Representative of the Prime Minister of India, having consulted the Government of Bangladesh has also conveyed the concurrence of Bangladesh Government in this Agreement.

DONE in New Delhi on August 28, 1973 in three originals, all of which are equally authentic.

Sd/-                                                                                     Sd/-
P.N.HAKSAR                                                            AZIZ AHMED
Special Representative                                              Minister of State for
of the Prime Minister of India                      Defence and Foreign Affairs,
Government of Pakistan

সাধারণ ক্ষমাঃ

অতঃপর ৩০ নভেম্বর ১৯৭৩ একটি সাধারণ ক্ষমা (General Amnesty) ঘোষণার মাধ্যমে হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ- এই চারটি অপরাধে অভিযুক্তদের বাদে বাকিদের ক্ষমা করে দেয়া হয়। ফলে হাতেগোনা কিছু লোক ছাড়া বাকি সবাই মুক্তি পায়। এখানে উল্লেখ্য যে, বেশীর ভাগ লোকের মুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের মহত্বের তেমন কোন দখল নেই। কারণ, (আবুল মনসুর আহমদের উদ্ধৃতিতেই যা বিদ্যমান) হাতে গোনা কিছু লোক বাদ দিয়ে বাকিদের বিরুদ্ধে সরকার কোন চার্জশীটও দাখিল করতে পারে নি। ফলে সরকার দেশ-বিদেশে এই ইস্যুতে বেশ চাপের মুখে পড়ে। তাছাড়া, উপরোক্ত চারটি অপরাধ বাদ দিলে এমন কোন অপরাধ থাকে না যদ্দরুন অসংখ্য মানুষকে বছরের পর বছর বিনা বিচারে আটক রাখা যেতে পারে। এ প্রসংগে আবুল মনসুর আহমদ লিখেছেন,

“… সেই আওয়ামী লীগেরই স্বাধীন আমলে অল্প দিনের মধ্যেই ত্রিশ-চল্লিশ হাজার নাগরিক গ্রেফতার হইয়াছেন এবং বিনা-বিচারে প্রায় দুই বছর কাল আটক আছেন। …তা না করিয়া যে পদক্ষেপ নেওয়া হইল, তার ফল হইল বিরূপ। ১০ই জানুয়ারি যেখানে শেখ মুজিবের বিরোধী একজনও ছিলন না, কয়েক দিনের মধ্যে সেখানে চল্লিশ হাজার লোক তাঁর বিরোধী হইলেন। কয়েক মাস পরে চল্লিশ হাজার বাড়িয়া চল্লিশ লাখ হইল। তাদের বিরোধিতা সক্রিয় না হইলেও ক্রিয়াশীল হইল। নেতৃত্বের প্রতি জনগনের আস্থায় ফাটল ধরিল। অনাস্থা হইতে সন্দেহ, সন্দেহ হইতে অবিশ্বাস, অবিশ্বাস হইতে শত্রুতা পয়দা হইল। পল্লী-গ্রামের স্বাভাবিক সামাজিক নেতৃত্ব যে আলেম সমাজ ও মাতব্বর শ্রেণী, তাঁদের প্রভাব তছনছ হইয়া গেল। ছাত্র-তরুনদের উপর শিক্ষক-অধ্যাপকদের আধিপত্যের অবসান ঘটিল। সে সামগ্রিক সন্দেহ, দলাদলি ও অবিশ্বাসের মধ্যে মুক্তি-যোদ্ধাদের অস্ত্র প্রত্যর্পণ ব্যাহত হইল। দেশের আইন-শৃংখলার প্রতি কারো শ্রদ্ধা থাকিল না। স্বভাব-দুস্কৃতিকারীরা এর সুযোগ গ্রহন করিল। সে সর্বজনীন অশান্তি ও বিশৃংখলা পুলিশ বাহিনীর আওতার বাহিরে চলিয়া গেল।” [13]

সাধারণ ক্ষমার মহত্ব প্রসংগে তিনি লিখেছেন,

“তারপর প্রায় দুই বছর পরে যখন সরকার তথাকথিত দালালদের ‘ক্ষমা’ করিলেন, তখন সে ক্ষমার মহত্ত্ব ত থাকিলই না, দুই বছরের তিক্ততায় তা রাষ্ট্রের কোন কল্যাণেই লাগিল না। চাকা আর উল্টা দিকে ঘুরিল না।” [14]

[প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা  ]   

 

 

 

 

ত্রিপক্ষীয় চুক্তি (Tripartite Agreement):

 

১৯৫ যুদ্ধবন্দীর (যাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উত্থাপন করেছিল) বিষয়টি তখনো পর্যন্ত অমীমাংসীত রয়ে গেল। ইতোমধ্যে  ২২ ফেব্রুয়ারী ১৯৭৪ পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ‘ক্ষমা কর ও ভুলে যাও’ (Forgive and forget) – নীতির ভিত্তিতে অগ্রসর হওয়ার জন্য অনুরোধ করে। এর জবাবে শেখ মুজিবুর রহমান জানিয়ে দিলেন, ‘বাংলাদেশের জনগন ক্ষমা করতে জানে’ (The people of Bangladesh know how to forgive)। অতঃপর লাহোরে অনুষ্ঠিত ইসলামী শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশ যোগদান করে। এসকল ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষিতে ১৯৫ যুদ্ধবন্দীর বিষয়টি চূড়ান্তভাবে  মীমাংসা করার উদ্দেশ্যে ৯ এপ্রিল ১৯৭৪ নয়া দিল্লীতে এক ত্রিপক্ষীয় (ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তান) চুক্তি (Tripartite Agreement) স্বাক্ষরিত হয়। উক্ত চুক্তির মাধ্যমে ১৯৫ যুদ্ধবন্দীর বিচারের ইতি টানা হয়।

Tripartite Agreement between India, Bangladesh and Pakistan for normalisation of relations in the subcontinent

New Delhi, April 9, 1974.

1. On July 2, 1972, the President of Pakistan and the Prime Minister of India signed an historic agreement at Shimla under which they resolved that the two countries put an end to the conflict and confrontation that have hitherto marred their relations and work for the promotion of a friendly and harmonious relationship and the establishment of durable peace in the sub-continent. The Agreement also provided for the settlement of “their differences by peaceful means through bilateral negotiations or by any other peaceful means mutually agreed upon.”

2. Bangladesh welcomed the Shimla Agreement. The Prime Minister of Bangladesh strongly supported its objective of reconciliation, good neighborliness and establishment of durable peace in the sub-continent.

3. The humanitarian problems arising in the wake of the tragic events of 1971 constituted a major obstacle in the way of reconciliation and normalisation among the countries of the sub-continent. In the absence of recognition, it was not possible to have tripartite talks to settle the humanitarian problems, as Bangladesh could not participate in such a meeting except on the basis or sovereign equality.

4. On April 17, 1973 India and Bangladesh took a major step forward to break the deadlock on the humanitarian issues by setting aside the political problems of recognition. In a Declaration issued on that date they said that they “are resolved to continue their efforts to reduce tension, promote friendly and harmonious relationship in the sub-continent and work together towards the establishment of a durable peace.” Inspired by this vision and “in the larger interests of reconciliation, peace and stability in the sub-continent” they jointly proposed that the problem of the detained and stranded persons should be resolved on humanitarian considerations through simultaneous repatriation of all such persons except those Pakistani prisoners of war who might be required by the Government of Bangladesh for trial on certain charges.

5. Following the Declaration there were a series of talks between India and Bangladesh and India and Pakistan. These talks resulted in an agreement at Delhi on August 28, 1973 between India and Pakistan with the concurrence of Bangladesh, which provided for a solution of the outstanding humanitarian problems.

6. In pursuance of this Agreement, the process of three-way repatriation commenced on September 19, 1973. So far nearly 300,000 persons have been repatriated which has generated an atmosphere of reconciliation and paved the way for normalisation of relations in the sub-continent.

7. In February 1974, recognition took place thus facilitating the participation of Bangladesh in the tripartite meeting envisaged in the Delhi Agreement, on the basis of sovereign equality. Accordingly His Excellency Dr. Kamal Hossain, Foreign Minister of the Government of Bangladesh, His Excellency Sardar Swaran Singh, Minister of External Affairs, Government of India and His Excellency Mr. Aziz Ahmed, Minister of State for Defense and Foreign Affairs of the Government of Pakistan met in New Delhi from April 5th to April 9th, 1974 and discussed the various issues mentioned in the Delhi Agreement in particular the question of the 195 prisoners of war and the completion of the three-way process of repatriation involving Bengalese in Pakistan, Pakistanis in Bangladesh and Pakistani prisoners of war in India.

8. The Ministers reviewed the progress of the three-way repatriation under the Delhi Agreement of August 28, 1973. They were gratified that such a large number of persons detained or stranded in the three countries had since reached their destinations.

9. The Ministers also considered steps that needed to be taken in order expeditiously to bring the process of the three-way repatriation to a satisfactory conclusion.

10. The Indian side stated that the remaining Pakistani prisoners of war and civilian internees in India to be repatriated under the Delhi Agreement, numbering approximately 6,500, would be repatriated at the usual pace of a train on alternate days and the likely short-fall due to the suspension of trains from April 10th to April 19th, 1974 on account of Kumbh Mela, would be made up by running additional trains after April 19th. It was thus hoped that the repatriation of prisoners of war would be completed by the end of April 1974.

11. The Pakistan side stated that the repatriation of Bangladesh nationals from Pakistan was approaching completion. The remaining Bangladesh nationals in Pakistan would also be repatriated without let or hindrance.

12. In respect of non-Bengalese in Bangladesh, the Pakistan side stated that the Government of Pakistan had already issued clearances for movement to Pakistan in favour of those non-Bengalees who were either domiciled in former West Pakistan, were employees of the Central Government and their families or were members of the divided families, irrespective of their original domicile. The issuance of clearances to 25,000 persons who constitute hardship cases was also in progress. The Pakistan side reiterated that all those who fall under the first three categories would be received by Pakistan without any limit as to numbers. In respect of persons whose applications had been rejected, the Government of Pakistan would, upon request, provide reasons why any particular case was rejected. Any aggrieved applicant could, at any time, seek a review of his application provided he was able to supply new facts or further information to the Government of Pakistan in support of his contention that he qualified in one or other of the three categories. The claims of such persons would not be time-barred. In the event of the decision of review of a case being adverse, the Governments of Pakistan and Bangladesh might seek to resolve it by mutual consultation.

13. The question of 195 Pakistani prisoners of war was discussed by the three Ministers, in the context of the earnest desire of the Governments for reconciliation, peace and friendship in the sub-continent. The Foreign Minister of Bangladesh stated that the excesses and manifold crimes committed by these prisoners of war constituted, according to the relevant provisions of the U.N. General Assembly Resolutions and International Law, war crimes, crimes against humanity and genocide, and that there was universal consensus that persons charged with such crimes as the 195 Pakistani prisoners of war should be held to account and subjected to the due process of law. The Minister of State for Defense and Foreign Affairs of the Government of Pakistan said that his Government condemned and deeply regretted any crimes that may have been committed.

14. In this connection the three Ministers noted that the matter should be viewed in the context of the determination of the three countries to continue resolutely to work for reconciliation. The Ministers further noted that following recognition; the Prime Minister of Pakistan had declared that he would visit Bangladesh in response to the invitation of the Prime Minister of Bangladesh and appeal to the people of Bangladesh to forgive and forget the mistakes of the, past, in order to promote reconciliation. Similarly, the Prime Minister of Bangladesh had declared with regard to the atrocities and destruction committed in Bangladesh in 1971 that he wanted the people to forget the past and to make a fresh start, stating that the people of Bangladesh knew how to forgive.

15. In the light of the foregoing and, in particular, having regard to the appeal of the Prime Minister of Pakistan to the people of Bangladesh to forgive and forget the mistakes of the past, the Foreign Minister of Bangladesh stated that the Government of Bangladesh had decided not to proceed with the trials as an act of clemency. It was agreed that the 195 prisoners of war may be repatriated to Pakistan along with the other prisoners of war now in the process of repatriation under the Delhi Agreement.

16. The Ministers expressed their conviction that the above agreements provide a firm basis for the resolution of the humanitarian problems arising out of the conflict of 1971. They reaffirmed the vital stake the seven hundred million people of the three countries have in peace and progress and reiterated the resolve of their Governments to work for the promotion of normalisation of relations and the establishment of durable peace in the sub-continent.

Signed in New Delhi on April 9th, 1974 in three originals, each of which is equally authentic.

Sd/-                                           Sd/-                                             Sd/-

(KAMAL HOSSAIN)           SWARAN SINGH)                   (AZIZ AHMED)

Minister of Foreign Affairs        Minister of External Affairs                 Minister of State for

Government of Bangladesh.          Government of India.                    Defense and foreign Affairs

Government of Pakistan

ত্রিপক্ষীয় (ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তান) চুক্তিতে (Tripartite Agreement) উপস্থিত (বা থেকে) বাংলাদেশের পক্ষে ডঃ কামাল হোসেন, ভারতের শরণ সিং ও পাকিস্তানের আজিজ আহমেদ।

ফলে যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন’ (The International Crimes (Tribunals) Act, 1973) জারী করা হয়েছিল,  ৯ এপ্রিল ১৯৭৪ ‘ক্ষমা কর ও ভুলে যাও’ (Forgive and forget) – নীতির ভিত্তিতে নয়া দিল্লীতে স্বাক্ষরিত এই ত্রিপক্ষীয় (ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তান) চুক্তির (Tripartite Agreement) মাধ্যমে তার ইতি  টানা হয়।

দালাল আদেশ রহিতকরণঃ

 

উক্ত সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর দালাল আইনে আর নতুন কোন মামলা দায়ের করা হয়নি। অধিকন্তু, অনেকের মতে দালাল আইনে আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। বিভিন্ন মহল থেকে এই আত্মঘাতি আইন বাতিলের দাবিও উঠেছিল বার বার। এরই প্রেক্ষিতে পচাত্তরের পট পরিবর্তনের পর ৩১ ডিসেম্বর ১৯৭৫ একটি অধ্যাদেশের (The Bangladesh Collaborators (Special Tribunals) (Repeal) Ordinance, 1975) মাধ্যমে দালাল আদেশ বাতিল করা হয়।

VOLUME    XIX

THE BANGLADESH COLLABORATORS (SPECIAL TRIBUNALS) (REPEAL) ORDINANCE, 1975

(ORDINANCE NO. LXIII OF 1975).

[ 31st December, 1975 ]

     An Ordinance to repeal the Bangladesh Collaborators (Special Tribunals) Order, 1972

WHEREAS it is expedient to repeal the Bangladesh Collaborators (Special Tribunals) Order, 1972 (P.O. No. 8 of 1972), and to provide for certain matters ancillary thereto;

NOW, THEREFORE, in pursuance of the Proclamations of the 20th August, 1975, and 8th November, 1975, and in exercise of all powers enabling him in that behalf, the President is pleased to make and promulgate the following Ordinance:-

 

 

SECTIONS

1.Short title: This Ordinance may be called the Bangladesh Collaborators (Special Tribunals) (Repeal) Ordinance, 1975.

2.Repeal of P.O. No. 8 of 1972: 2. (1) The Bangladesh Collaborators (Special Tribunals) Order, 1972 (P.O. No. 8 of 1972), hereinafter referred to as the said Order, is hereby repealed.

(2) Upon the repeal of the said Order under sub-section (1), all trials or other proceedings thereunder pending immediately before such repeal before any Tribunal, Magistrate or Court, and all investigations or other proceedings by or before any Police Officer or other authority under that Order, shall abate and shall not be proceeded with.

(3) Nothing in sub-section (2) shall be deemed to affect –

(a) the continuance of any appeal against any conviction or sentence by any Tribunal, Magistrate or Court under the said Order; or

(b) except to the extent provided in that sub-section, the operation of section 6 of the General Clauses Act, 1897 (X of 1897).

এভাবেই ১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন সমস্যার আইনগত পরিসমাপ্তি ঘটে।

 

এক নজরে আইনগত পদক্ষেপ সমূহঃ

 

  • ২৪ জানুয়ারি ১৯৭২ বাংলাদেশ দালাল (বিশেষ ট্রাইবুনাল) আদেশ (The Bangladesh Colloborators (Special Tribunals) Order, 1972)
  • ২রা জুলাই ১৯৭২ সিমলা চুক্তি (The Simla Agreement)
  • ২৮শে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩ বাংলাদেশ জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম (দায় মুক্তি) আদেশ (The Bangladesh National Liberation Struggle (Indemnity) Order, 1973)
  • ২০ জুলাই ১৯৭৩  ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন’ (The International Crimes (Tribunals) Act, 1973)
  • ২৮শে আগস্ট ১৯৭৩  দিল্লী চুক্তি (The Delhi Agreement)
  • ৩০ নভেম্বর সাধারণ ক্ষমা (General Amnesty)
  • ৯ এপ্রিল ১৯৭৪ ত্রিপক্ষীয় চুক্তি (Tripartite Agreement between India, Bangladesh and Pakistan for normalization of relations in the subcontinent, New Delhi, April 9, 1974.)
  • ৩১ ডিসেম্বর ১৯৭৫ বাংলাদেশ দালাল (বিশেষ ট্রাইবুনাল) (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ (The Bangladesh Collaborators (Special Tribunals) (Repeal) Ordinance, 1975)

 

মীমাংসীত ইস্যুর পুনরুত্থান (Resurrection) প্রেক্ষাপট:

 

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেনি। ১৭টি আসনে বিজয়ী হওয়ার প্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামী কোয়ালিশন সরকার গঠনের ব্যালান্সিং পয়েন্টে চলে আসে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ে কোয়ালিশন সরকার গঠনের প্রয়োজনে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগীতা চায়। জামায়াত বিএনপি কে সমর্থন দেয়ার পরপরই আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধীতার অভিযোগ এনে আন্দোলন শুরু করে। তারপর তারা ঘাদানিকের ব্যানারে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘জনতার আদালত’ তৈরী করে অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ডজনখানেক অভিযোগ উত্থাপন করে প্রতিকী বিচারে  তাঁর ফাসি ঘোষণা করে। কিন্তু, এ সকল ইস্যু আদালতে নিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট অধ্যাপক গোলাম আযমকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করে। [15] ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করার পর আওয়ামী লীগ এ ইস্যুটি নিয়ে আর কোন উচ্চবাচ্য করে নি।

 

 

কেন বিশেষ ট্রাইবুনালের প্রয়োজন?

 

কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে ভরাডুবি হওয়ার পর আওয়ামী লীগ ইস্যুটি আবার সামনে নিয়ে আসে। ‘পরের মাথায় লবন রেখে বরই খাওয়ার’ স্টাইলে তথাকথিত যুদ্ধাপরাধের বিচার কাজ কমপক্ষে শুরু করে দেয়ার জন্য এক এগারোর অগনতান্ত্রিক মইন-ফখর সরকারের উপর তারা প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু  এক এগারোর সরকার তাদের ফাঁদে পা না দিয়ে বিষয়টি আদালতে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিল। এ পরামর্শ তাদের পছন্দ হওয়ার কথা নয়। কারণ, তারা চাচ্ছিল পছন্দসই কয়েকজন বিচারক দিয়ে একটি বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে খুব দ্রুত তাদের রাজনৈতিক পথের ‘কাঁটাগুলোকে’ সরিয়ে দিতে। অথচ বিষয়টি আদালতে নিয়ে গেলে নিজেদের পছন্দমত রায় পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। সে সময় তাদের এক তাত্ত্বিক মন্ত্রক আবেদ খান বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাৎকারে এরকম আশংকাই প্রকাশ করেছিলেন। ‘আইনি হওয়া সত্ত্বেও বিষয়টি আপনারা আদালতে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন না কেন’ – বিবিসি সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে আবেদ খান বলেছিলেন, “দেখুন! আমরা গোলাম আযমের বিষয়টি আদালতে নিয়ে গিয়েছিলাম। আদালত কিন্তু তার নাগরিকত্ব দিয়ে দিয়েছে।”

ইতোমধ্যে তারা নিজেদের প্রভাব বলয়ের মিডিয়াগুলো ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়। অথচ, যথাযোগ্য আদালত কর্তৃক অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কাউকে ‘অপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

দিনবদলের সরকার ও যুদ্ধাপরাধের বিচারঃ

 

হতদরিদ্র মানুষকে ভাগ্য পরিবর্তনের আকাশ কুসুম স্বপ্ন আর রকমারী প্রতিশ্রুতির মায়াবী চাদরে জড়িয়ে আন্দোলনকারীরা দুই তৃতীয়াংশেরও বেশী আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। তথাকথিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য মিডিয়া ট্রায়ালের পাশাপাশি সরকার বহু ভেবে চিন্তে আইনের কেতাব থেকে ১৯৭৩ সালের কালা কানুনটিকে [‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন’ (The International Crimes (Tribunals) Act, 1973)] খুঁজে বের করে। অথচ ৯ এপ্রিল ১৯৭৪ নয়া দিল্লীতে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে এই আইনটির মূল উদ্দেশ্যের ইতি টানা (dropped) হয়েছিল। তাছাড়া, বিচার সঙ্ক্রান্ত মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থি হওয়ার দিক দিয়েও এ আইনটি শুরু থেকেই বেশ কুখ্যাতি অর্জন করেছে।

যুদ্ধাপরাধী থেকে মানবতা বিরোধী:

 

“‘যুদ্ধাপরাধী’দের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই”-শীর্ষক প্রচারণা যখন বেশ তুংগে, ঠিক তখনি সরকারের এক মন্ত্রী বিদেশ থেকে ফিরে সবাইকে চমকে দিয়ে ঘোষণা দিলেন, “সরকার ‘যুদ্ধাপরাধী’দের নয়, বরং ‘মানবতা বিরোধী’দের বিচার করবে।” অমনি সরকারের বাকি সবাই তাঁর সাথে কণ্ঠ মিলালেন।

পাঠকবর্গ নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, ১৯৭১ সালের রাজনৈতিক বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে এ যাবৎ তারা চার চার বার শব্দ পরিবর্তন করেছেন। যুদ্ধের অব্যবহিত পরে ‘দালাল’, নব্বইয়ের দশকে ‘স্বাধীনতা বিরোধী’,নতুন শতকের শুরু থেকে মাস খানেক আগ পর্যন্ত ‘যুদ্ধাপরাধী’ ও সর্বশেষ ‘মানবতা বিরোধী’। কিন্তু, অনেকেই বুঝে উঠতে পারছেন না যে, হঠাৎ এই শব্দ পরিবর্তনের কারণ কী। আমার মতে, এটা তাদের মানসিক অস্থিরতার ফল। একটি শব্দ ব্যবহারের পর তাদের বিবেক হয়তো বলে উঠে, “না! এটা দিয়ে নয়; বরং ঐ প্রক্রিয়ার অগ্রসর হলে অতি সহজে কেল্লা ফতে করা যাবে।” তাছাড়া, তাঁরা অনেক দেরীতে হলেও অনুধাবন করতে পেরেছেন যে, যুদ্ধাপরাধ মূলত সংঘটিত হয় সামরিক বাহিনী দ্বারা। তাঁরা যুদ্ধাপরাধীদের জিগির তোলে যাদেরকে রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দিতে চান তারা সামরিক বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার ফলে এই শব্দ ব্যবহারে বহুবিধ সমস্যা রয়েছে। তাই তাঁরা ‘মানবতা বিরোধী’ নামক একটি নিরিবিলি শব্দ বেছে নিয়েছেন। তাছাড়া, ‘মানবতা বিরোধী’ অপরাধ প্রমাণ করার জন্য খুব বেশী কষ্টেরও প্রয়োজন নেই। এমন প্রত্যেকটি অপরাধই ‘মানবতা বিরোধী অপরাধ’ যা মানুষের বিবেকবোধকে নাড়া দেয় (crimes that shake human conscience)। ব্যস! প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য এর চেয়ে সহজ উপায় আর কী চাই!

দলমত নির্বিশেষে অপরাধীর বিচারের পূর্বাভাষ!

বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই সাহেবের (যার বিরুদ্ধে প্রায়শঃ একাত্তরের অনেক অপকর্মের অভিযোগ উত্তাপন করা হয়) অন্তর্ভুক্তি ও তার পিতার নাম রাজাকার বাহিনীর তালিকায় ১৪ নম্বরে থাকায় খোদ আওয়ামী লীগের ভিতরে ক্ষোভের সঞ্চার হওয়ার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর বেয়াইর পিতা ‘রাজাকার’ হলেও ‘যুদ্ধাপরাধী’ ছিলেন না। অথচ স্বাধীনতার পর থেকেই তাদের ডিকশনারীতে ‘রাজাকার’ শব্দটি পাকিস্তানের দালাল, স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী ইত্যাকার শব্দের প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গত জোট সরকারের শাসনামলেও তারা একটি শ্লোগানে (‘দেশবাসী হুশিয়ার, মন্ত্রিসভায় রাজাকার’) রাজাকার শব্দটিকে একই অর্থে ব্যবহার করেছিল।   অতএব, প্রস্তাবিত ‘মানবতা বিরোধী’দের বিচার পক্ষপাতদুষ্টতা থেকে কতটুকু মুক্ত থাকবে তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে কিছুটা আঁচ করা যেতে পারে।

jiarht@gmail.com


[1] অনেকে হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন যে, উপরোল্লেখিত কর্ম সম্পাদন না করে যুদ্ধের সক্রিয় বিরোধিতা করা কীভাবে সম্ভব। এর উত্তর হচ্ছে, হ্যাঁ এটি সম্ভব। ধরুন, একজন লোক সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে (practical battle field) অংশগ্রহন করল। অনিবার্যভাবে দুপক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটল। এখন বলা যেতে পারে লোকটি ‘এক পক্ষের যুদ্ধের’ সক্রিয় বিরোধিতা করেছে; কিন্তু তার বিরুদ্ধে ‘নিরীহ’ মানুষ হত্যার দায়সংক্রান্ত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা যেতে পারে না। কারণ, যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিকের কাজই হল প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা।

[2] কেউ বলতে পারেন, উপরোক্ত নির্দেশদ্বয়ের কোনটিকে মেনে না নিয়ে চুপচাপ ঘরে বসে থাকার সুযোগও তো ছিল। এর জবাবে বলা যেতে পারে যে, প্রস্তাবটি আপাতত নির্জঞ্জাল ও নিরাপদ মনে হলেও তা মূলত মাত্রাতিরিক্ত ব্যক্তিগত স্বার্থচিন্তা প্রসূত। রাষ্ট্রের চরম ক্রান্তিলগ্নে এহেন নির্লিপ্ততা ভীরু কাপুরুষদের কাছে খুবই পছন্দনীয় হলেও খোদ রাষ্ট্রের জন্য এমন জনগোষ্ঠী এক ধরনের দুঃসহ বোঝাস্বরূপ। কারণ, এ প্রকৃতির লোকেরা রাষ্ট্রযন্ত্রের তাবৎ সুবিধা ভোগের ক্ষেত্রে অতিশয় সচেতন; অথচ রাষ্ট্রের প্রয়োজনে তাদের অবস্থা অনেকটা ‘আমরা কী জানি?’ অথবা ‘তাতে আমাদের কী?’ কিংবা ‘বাপু আমরা রাজনীতি বুঝি না; ওসব রাজনৈতিক ব্যাপার রাজনীতিবিদরাই এর সমাধান করবেন’ – ধরনের। এমন নির্লিপ্ত ও মাত্রাতিরিক্ত স্বার্থতাড়িত লোক আর যাই হোক অন্তত রাষ্ট্রের চরম ক্রান্তিলগ্নে অনুসরনীয় আদর্শ স্থানীয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।]

[3] উইকিপিডিয়া Indo-Pak War of 1971

[4]সুত্রঃ টাইম ম্যাগাজিন আর্কাইভ:  http://www.time.com/time/photogallery/0,29307,1844754,00.html

[5] টাইম ম্যাগাজিন আর্কাইভ ও উইকিপিডিয়া

[6] সূত্রঃ টাইম ম্যাগাজিন আর্কাইভ http://www.time.com/time/photogallery/0,29307,1844754_1772102,00.html

[7] Moudud Ahmed, Bangladesh: Era of Sheikh Mujibur Rahman, University Press Limited, Dhaka, 1991, pp. 60-61

[8] আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর, আবুল মনসুর আহমদ রচনাবলী, ৩য় খণ্ড, বাংলা একাডেমী ২০০১, পৃষ্ঠা ৪৬৮-৪৬৯

[9] আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর, আবুল মনসুর আহমদ রচনাবলী, ৩য় খণ্ড, বাংলা একাডেমী ২০০১, পৃষ্ঠা ৪৬৮-৪৬৯

[10] বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৬ (১)

[11] বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৭ (৩)]

[12] উইকিপিডিয়া, Indo- Pak War

[13] আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর, আবুল মনসুর আহমদ রচনাবলী, ৩য় খণ্ড, বাংলা একাডেমী ২০০১, পৃষ্ঠা ৪৬৯-৪৭০

[14] আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর, আবুল মনসুর আহমদ রচনাবলী, ৩য় খণ্ড, বাংলা একাডেমী ২০০১, পৃষ্ঠা ৪৭০

[15] Bangladesh v. Golam Azam, 46 DLR (AD)

Leave a comment

Filed under Uncategorized

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s